বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬

মহাশ্বেতা

ধুম্রকুট নয় ---
কুয়াশার বুকে ভর করে
আস্তে আস্তে নেমে আসে
             - আমার মানসী ;
তুমি তো সরস্বতী নও
             - তুমি আমার হৃদয়ের মহাশ্বেতা ।
নব কলেবর উন্মোচন করে
তুমি এসে দাঁড়ালে আমার সামনে
বন্ধু ! এতো স্বপ্ন নয়
                  – বাস্তবের আলিঙ্গন ;
রূঢ় পৃথিবীর দাহ্য মাটিতে আমার
                 প্রেয়সীর স্বপ্ন বিচরণ ।
ক্রমে ক্রমে এক বিশাল বিলুপ্ত পথ অতিক্রম করে
বাসর ঘরের আনন্দ যেন
                - জীবনানন্দের " লাশ কাটা ঘরে " ;
ভোলগা থেকে গঙ্গা হয়ে ফিরে আসে
                 কৈশোর সিঁড়ির গোঁড়ায় ।

~~~~~~~ 0000 ~~~~~~~~

স্বপ্ন

" আর সব মরে , স্বপ্ন মরে না - " (সু গ)
সুকান্ত , দীনেশ , রণেন' রা মরেনি 
 তাঁদের আদর্শ অমরত্বের আশ্বাস ;
আমাদের নিশ্বাস কথা বলে
সুভাষ , সুর্যসেনদের সোনালী স্বপ্ন ;
কঙ্কাল হতে লজ্জা নেই
        - যদি সেখানে লুকিয়ে থাকে গোপন স্বপ্ন ।

অমাবস্যার শ্ম্শানের - অদ্ভুত অন্ধকার
সাধক স্বপ্ন দেখে বাঙময়তার
টেবিলে মুখ গুজে কত ছেলে স্বপ্ন দেখে
ভবিষ্যতের স্বপ্ন - সে তো মিথ্যা নয় ।

সন্ধ্যার সূর্য স্বপ্ন দেখে - ঊষার অরুন হবে সে
কবি স্বপ্ন দেখে গোপনে - ভালোবাসার ;
ভালবাসা ছাড়া তার সৃষ্টি অধুরা ।

পাহাড় চূড়ায় উঠে তানজিন স্বপ্ন দেখে
একদিন সে উপরে উঠবে.... আরও .... !! আরও ..... !!!
মিশে যাবে আকাশের নীলিমায় ;

আর আমি স্বপ্ন দেখি - সুনীলের মতো
পাহাড় কেনার নয় - বহমান নদীর ভালোবাসা
হ্যাঁ , ভালোবাসা কিনব আমি ।

~~~~~~ 000 ~~~~~~

সাগর বেলায়

সাগর বেলায় সদ্য ফোটা গোলাপ হাতে
মেয়েটি - মনের এক অজানা তীব্র বাসনায় -
উন্মুক্ত অম্বরতলে - ঢেউতোলা ফেনারাশির
সুভ্রতায় দাঁড়ায়ে।
স্নানের পূর্বে উষ্ণতার অনুভব
চোখে চোখে ; অস্পষ্ট কন্ঠস্বরে মৃদু গুঞ্জরণ।
ক্ষুদ্র বালিহাঁস উস্কে দিলো অন্তহীন প্রেমাকাঙ্খা
বিতৃষ্ণা রাতে খেয়েছে - লজ্জা ;
গিরিশ্রেনীর ঝর্ণায় কুয়াশা স্নাত - বেয়ারাগুলো
বিয়ে করেছে -- পরিনীতা নয় , প্রেমিকা ;
                                                --- ব্যাস।

অনেক স্মৃতি জড়িত দর্পনের সঙ্গে
উত্তেজনায় মগ্ন - তীব্র কৃত্রিম সুখে ;
প্রেমের দীপশিখা নিভে এলো
সপ্ত সুর লুপ্ত - বেসামাল ;

নিরালা ঘরের কপোত কপোতী ।

------------ ০০০ ---------------

বেশ্যা

                    বেশ্যা

----- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম 


সাধুর নগরে বেশ্যা মরেছে

পাপের হয়েছে শেষ,
বেশ্যার লাশ হবে না দাফন
এইটা সাধুর দেশ।
জীবিত বেশ্যা ভোগে তো আচ্ছা, মরিলেই যত দোস?

দাফন কাফন হবে না এখন
সবে করে ফোস ফোস।
বেশ্যা তো ছিল খাস মাল, তোদের রাতের রানী,
দিনের বেলায় ভুরু কোচ কাও?
মরিলে দেওনা পানি!

সাধু সুনামের ভেক ধরিয়া দেখালি দারুন খেলা,
মুখোশ তোদের খুলবে অচিরে
আসবে তোদের বেলা।
রাতের আধারে বেশ্যার ঘর স্বর্গ তোদের কাছে,
দিনের আলোতে চিননা তাহারে?
তাকাও নাকো লাজে!

চিনি চিনি ভাই সব সাধুরেই হরেক রকম সাজ,
সুযোগ পেলেই দরবেশী ছেরে দেখাও উদ্দাম নাচ!
নারী আমাদের মায়ের জাতি বেশ্যা বানালো কে?
ভদ্র সমাজে সতীর ছেলেরা খদ্দের সেজেছে?
গরীবের বৌ সস্তা জিনিস সবাই ডাকো ভাবি,
সুযোগ পেলেই প্রস্তাব দাও আদিম পাপের দাবি।
স্বামী যখন মরলো ভাবির দুধের শিশু কোলে,
ভদ্র দেবর সুযোগ খোঁজে সহানুভূতির ছলে।

দিনের মত দিন চলে যায়,
হয় না তাতে দোষ
মরা লাশের সুযোগ পেয়ে মোল্লার রোষ।
মোল্লা সাহেব নায়েবে রাসুল ফতোয়া ঝারিশা কয়,
পতিতা নারীর জানাজা কবর এই এলাকায় নয়।

শুধাই আমি ওরে মোল্লা জানাযায় যত দোষ,
বেশ্যার দান নিয়াছো ঝোলিয়ে তুমি বেটা নির্দোষ?
বেশ্যার তবু আছে পাপ বোধ নিজেকে সে ভাবে দোষী,
তোমরা তো বেটা দিন বেচে খাও হচ্ছেয় খোদার খাসি।
আল্লাহর ঘর মসজিদে ও আছে বেশ্যার দান -
কলেমা পড়েছে সে ওতো তবে নামেতে মোসলমান!

বেশ্যা নারী ব্যবসায় নারী পুরুষরা সব সৎ?
জানি মোল্লা খুলবে না মুখ চাকরি যাওয়ার পথ!

আর কতকাল থাকবি অমন মুখোশ ধারীর দল,
আসবো এবার মশাল নিয়ে ভাঙতে তোদের কল।
সত্যর আলো জলবে যখন চিনবে তোদের সবে,
লেবাশধারী মুখোশধারী মুখোশ উপরে যাবে।
এই ভাবে আর চালাবি কত ছল চাতুরীর খেলা।
আসবে তিনি, এবার তোদের বিদায় নেবার পালা।।

কস্তুরী

কস্তুরী !!, 
তোমার জন্ম কোথায় ?
শাল-সেগুনের ছায়ায় তোমার আসা যাওয়া
সুন্দর গোরী গোরী চেহারা
রূপসী রাণীর দীপ শিখা;
অন্তরের অনিবার্য আকর্ষণ।
চিতল হরিণের অতল নাভিমূলে ?

কচি জীবনের প্রথম প্রেমের আকর্ষণ ,
চঞ্চল হৃদয় শব্দের অনুরণন ;
প্রকোষ্ঠ বন্ধী হয়ে প্রেমিক মনে এসেছে
স্বপ্নের বসন্ত; খুঁজে বেড়ায় ----
গলি হতে গলি ; কাব্য হতে কবিতায় ,
উপন্যাসের পাতায় পাতায় ;

তবুওঃ ম্রিয়মান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি ----
তার পরই চোখে ভাষে
এক দুরন্ত হরিণী রূপ; --- ধীর স্থির
শান্ত ভাবে ---- গুনতী পদে
চলছে বেয়ে অস্তরাগের তরী ;
করন্তে মিহিকায় ভেজা ফুল চয়নে
প্রভাতে বেস্ত ---- আমার হৃদয় কস্তুরী ।

হে মোর সহ কস্তুরী !
তুমি রাতের অন্ধকার নও , ----
----- জ‍্যোৎস্নার অম্লান হাসি ;
তোমার অনবদ্যাঙ্গী প্রবহমান হিয়ায় আমি ;
অনপেক্ষ প্রেমিক হয়ে রব
---- এ শতাব্দীর শাশ্বতকাল পরেও ।

––– ০০০ –––

শনিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৫

চাচার ঐতিহাসিক ভুল

*চাচার ন'টি সাংঘাতিক দয়ায় ভারত আজ মেরুদন্ড সোজা করতে হিমশিম খাচ্ছে* 


1. 1951 সালে নেপালের রাজা ঘিরিভূবন নেপালকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। নেহেরু তা প্রত্যাখ্যান করেন!

2. বালুচিস্তানের নবাব খান চিঠি লেখেন নেহেরুকে। ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিমত প্রকাশ করেন, কিন্তু চাচা তা প্রত্যাখ্যান করেন! কিছুদিন পরেই পাকিস্তান কব্জা করে বালুচিস্তান।

3. 1947 এ ওমান ভারতকে অফার দিয়েছিল গ্বাদার পোর্ট ভারতকে নেওয়ার জন্য, কিন্তু চাচা প্রত্যাখ্যান করেন! কিন্তু পাকিস্তান নিল, নিয়ে চিনকে দিয়ে দিল!! আর চিন আমাদের মাথার ওপর ছড়ি ঘোরাতে শুরু করল!!

4. 1950 তে চাচা বার্মাকে গিফ্ট হিসাবে দিলেন (যেন বাপত্ব সম্পত্তি) কোকো আইল‍্যাণ্ড!! বার্মা বিক্রি করল চিনকে!! আর ভারতের নৌবাহিনীর উপর নজরদারি শুরু করে দিল!!

5. 1952 এ অতি দয়ালু চাচা (যিনি নিজ স্বার্থে দেশকে বিলিয়ে দিতেও কুণ্ঠা বোধ করেন না) কাবাও ভ‍্যালে বার্মাকে দান করলেন! এর আয়তন 22,327 বর্গ কিলোমিটার!! কাশ্মীরের মত আর এক ভূ-স্বর্গ !! বার্মা চিনকে বিক্রি করে দিল! আর ভ‍্যালে এরিয়ায় আমাদের উপর জাশুসি করছে!!

6. স্বাধীনতা পাওয়ার পরেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জন. এফ. কেনেডি নিউক্লিয়ারের উপর এক্সপিরিমেন্ট ও নিউক্লিয়ার সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার জন‍্য অফার করে, কিন্তু --- কিন্তু চাচা --- লড়ে কিছুই আদায় করতে হয়নি! বোকা সুভাষ জীবনের বাজী রেখে লড়াই করে আজাদী দিয়েছে --- আর ইনি গান্ধীর পা চেটে মসনদ হাসিল করেছেন!! রিজেক্ট করলেন!! একসেপ্ট করলে চিনের আগে NSG এর প্রথম সদস্য হত ভারত। আজ 70 বছর অপেক্ষা করতে হত না। চিনের একটা রায়ের অপেক্ষা করতে হত না!!

7. 1950 সালে আমেরিকা ভারতকে ইনাইটেড ন‍্যাশনের পার্মানেন্ট সদস্য হওয়ার জন্য বলে, কিন্তু অপরের ধনে ধনী, অপরের বলে বলীয়ান দানবীর চাচা প্রত‍্যাখ‍্যান করে চিনের নাম প্রস্তাব করলেন!! 1955 সালে আমেরিকা ও রাশিয়া যৌথভাবে ভারতকে অফার করল ---- চাচা স্বমহিমায় প্রত‍্যাখ‍্যান করলেন!! 

1947 এর অক্টোবর, পাকিস্তানের ট্রাইবাল আর্মি কাশ্মীরে প্রবেশ করল! সর্দার প‍্যাটেল ভারতীয় ফৌজ পাঠালেন কাশ্মীরের মহারাজকে সহায়তা করার জন্য।যখন ইণ্ডিয়ান আর্মি পাকিস্তানের উপর বুলডোজার।চালাচ্ছে ---- চাচা যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করলেন!! লাখো পাকিস্তানী সৈন্য বন্দী হওয়া সত্ত্বেও কাশ্মীরের এক তৃতীয়াংশ দান করে দিলেন পাকিস্তানকে !! কেন এত পাকিস্তান প্রীতি?? 
আজ পাপ্পুও দেখায়!! আর370??

9. ইণ্ডিয়া-চিন যুদ্ধ ---- 1962! এয়ারফোর্স প্ল্যান অনুযায়ী চলতে চেয়েছিল ---- চাচা না করে দিলেন। " আক্সাই চিনের কোন গুরুত্ব নাই! কারণ ওখানে কোন ঘাস নাই! পরাজয় স্বীকার করলেন --- চিনকে 14000 বর্গ কিলোমিটার ভেট হিসাবে দিলেন!!

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস যতই অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন দেখাক ---- এরকম গদ্দার থাকলে দেশ আরও টুকরো টুকরো হবে!!

#সংগৃহীত 

মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল, ২০২৪

দুই বিঘা জমি

দুই বিঘা জমি
___রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


শুধু বিঘে-দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবই গেছে ঋণে।
বাবু কহিলেন, ‘বুঝেছ উপেন? এ জমি লইব কিনে।’
কহিলাম আমি, ‘তুমি ভূস্বামী, ভূমির অন্ত নাই –
চেয়ে দেখো মোর আছে বড়জোর মরিবার মতো ঠাঁই।
শুনি রাজা কহে, ‘বাপু, জানো তো হে, করেছি বাগানখানা,
পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দিঘে সমান হইবে টানা –
ওটা দিতে হবে।’ কহিলাম তবে বক্ষে জুড়িয়া পাণি
সজল চক্ষে, ‘করুন রক্ষে গরিবের ভিটেখানি।
সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ সে মাটি সোনার বাড়া,
দৈন্যের দায়ে বেচিব সে মায়ে এমনি লক্ষ্মীছাড়া!’
আঁখি করি লাল রাজা ক্ষণকাল রহিল মৌনভাবে,
কহিলেন শেষে ক্রুর হাসি হেসে, ‘আচ্ছা, সে দেখা যাবে।’

পরে মাস-দেড়ে ভিটে মাটি ছেড়ে বাহির হইনু পথে –
করিল ডিক্রি, সকলই বিক্রি মিথ্যা দেনার খতে।
এ জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি,
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।
মনে ভাবিলাম, মোরে ভগবান রাখিবে না মোহগর্তে,
তাই লিখি দিল বিশ্বনিখিল দু বিঘার পরিবর্তে।
সন্ন্যাসীবেশে ফিরি দেশে দেশে হইয়া সাধুর শিষ্য –
কত হেরিলাম মনোহর ধাম, কত মনোরম দৃশ্য।
ভূধরে সাগরে বিজনে নগরে যখন যেখানে ভ্রমি
তবু নিশিদিনে ভুলিতে পারি নে সেই দুই বিঘা জমি।
হাটে মাঠে বাটে এইমত কাটে বছর পনেরো-ষোলো,
একদিন শেষে ফিরিবারে দেশে বড়োই বাসনা হল।।

নমোনমো নম, সুন্দরী মম জননী বঙ্গভূমি!
গঙ্গার তীর, স্নিগ্ধ সমীর জীবন জুড়ালে তুমি।
অবারিত মাঠ, গগনললাট চুমে তব পদধুলি –
ছায়াসুনিবিড় শান্তির নীড় ছোটো ছোটো গ্রামগুলি।
পল্লবঘন আম্রকানন, রাখালের খেলাগেহ –
স্তব্ধ অতল দিঘি কালোজল নিশীথশীতলস্নেহ।
বুক-ভরা-মধু বঙ্গের বধু জল লয়ে যায় ঘরে
মা বলিতে প্রাণ করে আনচান, চোখে আসে জল ভরে।
দুই দিন পরে দ্বিতীয় প্রহরে প্রবেশিনু নিজগ্রামে –
কুমোরের বাড়ি দক্ষিণে ছাড়ি, রথতলা করি বামে,
রাখি হাটখোলা নন্দীর গোলা, মন্দির করি পাছে
তৃষাতুর শেষে পঁহুছিনু এসে আমার বাড়ির কাছে।।

ধিক্ ধিক্ ওরে, শত ধিক্ তোরে নিলাজ কুলটা ভূমি,
যখনি যাহার তখনি তাহার – এই কি জননী তুমি!
সে কি মনে হবে একদিন যবে ছিলে দরিদ্রমাতা
আঁচল ভরিয়া রাখিতে ধরিয়া ফলফুল শাক-পাতা!
আজ কোন্ রীতে কারে ভুলাইতে ধরেছ বিলাসবেশ –
পাঁচরঙা পাতা অঞ্চলে গাঁথা, পুষ্পে খচিত কেশ!
আমি তোর লাগি ফিরেছি বিবাগি গৃহহারা সুখহীন,
তুই হেথা বসি ওরে রাক্ষসী, হাসিয়া কাটাস দিন!
ধনীর আদরে গরব না ধরে! এতই হয়েছ ভিন্ন –
কোনোখানে লেশ নাহি অবশেষ সে দিনের কোনো চিহ্ন!
কল্যাণময়ী ছিলে তুমি অয়ী, ক্ষুধাহরা সুধারাশি।
যত হাসো আজ, যত করো সাজ, ছিলে দেবী – হলে দাসী।।

বিদীর্ণহিয়া ফিরিয়া ফিরিয়া চারি দিকে চেয়ে দেখি –
প্রাচীরের কাছে এখনো যে আছে সেই আমগাছ একি!
বসি তার তলে নয়নের জলে শান্ত হইল ব্যথা,
একে একে মনে উদিল স্মরণে বালককালের কথা।
সেই মনে পড়ে, জ্যৈষ্ঠের ঝড়ে রাত্রে নাহিকো ঘুম,
অতি ভোরে উঠি তাড়াতাড়ি ছুটি আম কুড়াবার ধুম।
সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন –
ভাবিলাম হায়, আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন।
সহসা বাতাস ফেলি গেল শ্বাস শাখা দুলাইয়া গাছে,
দুটি পাকা ফল লভিল ভূতল আমার কোলের কাছে।
ভাবিলাম মনে, বুঝি এতখনে আমারে চিনিল মাতা।
স্নেহের সে দানে বহু সম্মানে বারেক ঠেকানু মাথা।।

হেনকালে হায় যমদূতপ্রায় কোথা হতে এল মালী।
ঝুঁটিবাঁধা উড়ে সপ্তম সুরে পাড়িতে লাগিল গালি।
কহিলাম তবে, ‘আমি তো নীরবে দিয়েছি আমার সব –
দুটি ফল তার করি অধিকার, এত তারি কলরব।’
চিনিল না মোরে, নিয়ে গেল ধরে কাঁধে তুলি লাঠিগাছ;
বাবু ছিপ হাতে পারিষদ-সাথে ধরিতেছিলেন মাছ –
শুনে বিবরণ ক্রোধে তিনি কন, ‘মারিয়া করিব খুন।’
বাবু যত বলে পারিষদ-দলে বলে তার শতগুণ।
আমি কহিলাম, ‘শুধু দুটি আম ভিখ মাগি মহাশয়!’
বাবু কহে হেসে, ‘বেটা সাধুবেশে পাকা চোর অতিশয়!’
আমি শুনে হাসি, আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোরে ঘটে –
তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে।।

~~ ভবিষ্যৎ পাথেয় ~~

ভবিষ্যৎ পাথেয়     বিদায় বিদায় বলে যেওনা ভুলে ---- এ বিদায়  তো সে বিদায় নয়। ক্ষণিকের তরে যেতেছ ছেড়ে পুরাতন পাঠশালা ! নতুন পাবে পুরাতন ভুলিবে...