বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬

শ্রাবণী

আমি চলেছি  পথের বাঁকে
হারিয়েছি তোমাকে শ্রাবণী !
শ্রাবস্তী নগরী পার হয়ে তুমি
           ত্রস্তা ধরণীর বুকে মিশেছ।

তুমি সুখী হয়েছ তো ?

ভালোবাসার মহার্ঘ্যভাতা পাইনি আমি
শুধু করের বোঝা চেপেছে।
শোধ দিতে না পেরে - হয়েছি দেউলিয়া ;
শুয়েছি ধুলার প্রাসাদে -
শুধু  তোমারই জন্যে - শ্রাবণী !

তুমি সুখী হয়েছ তো ?

আজ এই ক্রান্তিকালীন সময়ে
দেখে যেও একটি বার , অমৃতশয়ানে
আছি যে তোমারি পথ চেয়ে
 বৃথা  ফিরায়ো না -- শ্রাবণী !!

আমি  যে ভালোবাসার মহার্ঘ্যভাতা পেতে চায়।

--- ০০০ ---

প্রতিভা

প্রতিভা,
তোমারে কখনো তো আমি দেখিনি
তবুওঃ তোমার স্বপ্নালু নীলাভ আঁখি
সন্ধ্যার অন্ধকারে ভেসে ওঠে;
পল্লবিত করে শীতে ঝরে পড়া পাতা,----
বর্ষার তেজে সচেতন হয়ে ওঠে,
বসন্তের দক্ষিণা হওয়ায় সবই ----
গুলিয়ে যাচ্ছে, শুধুই ------- ।

প্রতিভার জ্বালায় পৃথিবীর কোণে
ডাক পড়েছে,
ধ্রুবতারা জ্বলে উঠেছে,
গ্রহান্তরে খুঁজে বেড়ায় -----
সেই কোমল কোরক অব্যক্ত অবয়ব;
লুকানো গভীর মর্মর ব্যাথা -----
নিশ্চল হয়ে দেখি।

প্রতিভা,
তোমার মেঘের মতো এলোমেলো চুলগুলি
সৌরভের মাদকতা --- সর্বশরীরে ;
প্রতিভা! সত্যি চুরি হয়ে গেছে
শরীরের রিক্ত জীবনের মৃত্যু মেদ;
ঝলমলে বর্ণময় কান্তি;
উজ্জ্বল হৃদয়।

প্রতিভা, নির্জন প্রকোষ্ঠে ফুটিয়েছে
তার অ'মৃতহীন উঠতি শরীর
উষ্ণ আলিঙ্গনের তৃপ্তিতে ভেজাতে।

তন্দ্রার অলীক আকাশগঙ্গার সিঁড়ি
হঠাৎ ছিটকে গেলো -----
বাস্তবের কঠোর ধূলিতে;
পরখ করতে পারিনি সৃষ্টিসুধা
কারণঃ
সে ছিল আমার প্রিয়া প্রতিভা।

––––––––―

ভালোবাসার বৈধব্য

ভালোবাসার বৈধব্য হয় না ;
তোমার ছন্দপতন আমার জীবনে ......
ভালোবাসাকে করেছে আরও স্বচ্ছ
আরও পরিপূর্ণ।

সশব্দে আগমন -------- নিঃশব্দে নির্গমন তোমার ;
কিন্তু, আমার জীবনকে করেনি কোনো পরিবর্তন .......
ভালোবাসার কোনো শুন্যতা নেই
হয়েছি সম্পূর্ন।

তোমার ছন্দপতনে অন্যজন ;
ভালোবাসার ফুলে অভিনন্দিত হয়েছি বারবার,
আমিও স্বাগত জানিয়েছি ; কারণ .......
ভালোবাসার বৈধব্যকে স্বীকার করিনি আমি।।

--- ৹৹৹ ---

বেশ্যা

জীবনের সুপ্রাভাতে আমার
সারস্বত্যের সমাধী দিলে তুমি :
ভালোবেসে কাছে টানা নয় --
  স্বায়ত্বশাসনের ধ্বজায় বলি ;

কৈশোরের কিশলয় পুস্তক স্পর্শ করি
যৌবনের স্বপ্ন বৈভবের দীপশিখা জ্বালে :
স্বচ্ছলতার, উচ্ছলতা ক্ষুধায় ম্রিয়মান আজ --
বয়:সন্ধির শিশু-শশী প্রতিবিম্বের স্মৃতি ভরে ।

যুগান্তরের ঘূর্ণাবর্তে ---- !
নিষ্ফলে সফল এক ফোঁটা জল 
প্রিজমছটায় অঙ্কুর - ধূসর দ্যূতির জাহ্নবী :
অতিবৃদ্ধ ডাবওয়ালার প্রচ্ছন্ন মুখ ক্রীড়নক ---
       কতিপয়ের হাস্যধ্ব্নিতে !

তাই কুয়াশার শিশিরে ভিজেছে হৃদয়
ঢিল ফেলা দূরত্বে ভালোবাসা
থেমে গেছে -- রুদ্ধ কন্ঠ -- রক্তে ---
অমাবস্যার কালি খাঁড়াই ;

গৌরী জীবন কালিমা লিপ্ত ফুটপাথে
কেটেছে বিষাক্ত সাপের দল :
মুমূর্ষু নীলদেহ যৌবন আজ ---
সমাজ দিয়েছে নাম --- বেশ্যা।
----- ০০০ ----- 

ভালোবাসার মানে

ভালোবাসা মানে
উদাসী বাঁকে হারিয়ে যাওয়া
এক ঝাঁক বালিহাঁস।
ভালোবাসা মনে
মুক্ত আকাশে ডানা মেলা
পেঁজা পেঁজা এক খণ্ড সাদা মেঘ।
ভালোবাসা মানে
গভীর সমুদ্রের -- তট থেকে
দেখতে না পাওয়া ওই দিগন্ত রেখা।
ভালোবাসা মানে
অমাবস্যার দুর্যোগপূর্ণ রাতে
হঠাৎ দেখতে পাওয়া এক পথিক।
ভালোবাসা মানে
মরুভূমিতে পথ হারা এক তৃষ্ণার্ত পথিকের
হঠাৎ ঝরে পড়া এক পশলা বৃষ্টি।
ভালোবাসা মানে
দুর্যোগ ভরা রাতে --
তুমি ছিলে না সাথে।
ভালোবাসা মানে
বৃষ্টি ভেজা রাতে --- তুমি দূর হতে
একাকী হৃদয় ছুঁয়ে --- এঁকে দিলে ভালোবাসায়।।

অস্তমিত হুরী

স্তোকনম্রা নগ্ন বুকে
অস্তমিত জ্বলন্ত সূর্য ;
পশ্চিমাকাশে হেলে পড়েছে ; ---
কিন্তু তার অগ্নিপিন্ড এখনো
হাতছানি দেয় লালিমায় ।

মনেহয়
     কোন একসময় এর তেজ
     বহু সবুজত্বকে নষ্ট করেছে ;
কিন্তু এখন ----- ?
     পড়ন্ত আকাশের মধ্য গগনে এসে
     ঠেকেছে ।

আজ
বরারোহা ভারে হুরী লজ্জাবনতা
     অব্যক্ত যন্ত্রণায় ;
স্তোকনম্রা নগ্ন বুকে -----
পুঞ্জি ভূত ব্যাথার রাশি
     অগ্নি হয়ে ঝরে ।

ছুটি

তুমি এসেছিলে .......... 
কবে ?

কেন ! সেই বৈশাখের তপ্ত দুপুরে
দখিনা জানালা বেয়ে
শিরশিরে ঘুম ঘুম হাওয়া জড়ানো
রঙীন পাতলা শাড়ীতে।
তোমার গোল - পীনোন্নত মুখ ভালোবাসার আহব্বায়ক।
যেখানে  অম্বরহীন একজোড়া ঠোট , শ্রোণীদেশ ---
মিষ্টি নদীর মন্দ ধ্বনি আমি শুনেছিলাম।

তুমি বলেছিলে -----  " কালই শেষ "
" ছুটি শেষ ! "
" থাকো না আরো ----- একদিন ----- ", বিফল অনুরোধ।

বাহু বন্ধন ছিন্ন করে সোজা হলে।
ভেবেছিলাম এমনি করে চিরকাল
তপ্ত বৈশাখী দুপুরে দু'জনে মিলে
আম কুড়াবো -----  মাখাবো ----- সুখে খাবো ,
কিন্তু " ছুটি !! "

চলন্তিকা ট্রেনে চেপে তুমি
অনন্ত হাওয়ায় মিশে গেলে।

জানালার কবাট বন্ধ
অসীম আকাশ সসীমতায় নিঃশেষ ।।

----- ০০০ -----

শ্রাবণী

আমি চলেছি  পথের বাঁকে হারিয়েছি তোমাকে শ্রাবণী ! শ্রাবস্তী নগরী পার হয়ে তুমি            ত্রস্তা ধরণীর বুকে মিশেছ। তুমি সুখী হয়েছ তো ...