রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৩

নাথুরাম গডসের শেষ জবানবন্দি

সংগৃহীত : 
________________________________________
আমি গান্ধীকে কেন মেরেছি
-----------------------------------------------------------------

সুপ্রীম কোর্টের অনুমতি পাওয়ার পর প্রকাশিত হয় মাননীয় নাথুরাম গোডসের ভাষন --- আমি গান্ধীকে কেন মেরেছি। 60 বছর এটা নিষেদ ছিল! আপনারা সকলেই জানেন --- 30 শে জানুয়ারী, 1948 গোডসে গুলি মেরে গান্ধীজীর হত্যা করেছিলেন। গুলি মেরে উনি ঘটনা স্হল থেকে পালিয়ে যান নি! উনি আত্মসমর্পণ করলেন! গোডসের সঙ্গে আরও 17 জনের বিরুদ্ধে মামলা শুরু হল। মামলা চলাকালীন প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ করা হয় যাতে নাথুরাম গোডসে তাঁর বক্তব্য রাখতে পারেন। অনুমতি ত মিলল কিন্তু শর্ত সাপেক্ষ! সরকারের নির্দেশ অনুসারে কোর্টের বাইরে যাওয়া চলবে না। পরে ওনার ছোট ভাই গোপাল গোডসে দীর্ঘদিন মামলা চালানোর পর ---- প্রায় 60 বছর পর অনুমতি পাওয়া যায় সর্ব সমক্ষে রাখার। 

1. নাথুরাম ভাবতেন --- গান্ধীজির অহিংসা ঐ মুসলিম তোষণ নীতি হিন্দুদের কাপুরুষে রূপান্তরিত করে দিচ্ছে। কানপুরে গণেশ শঙ্কর বিদ্যার্থীকে মুসলিমরা নির্মম ভাবে হত্যা করে। আর যে গণেশজী গান্ধীজির ভাব ধারায় প্রভাবিত ছিলেন ---- তাঁর হত্যাকান্ডে গান্ধীজি চুপ রইলেন!

2. 1919 এর জালিয়ানওয়ালা বাগের হত্যাকান্ডে সমস্ত আক্রোশে ফুঁসছিল। এই নৃশংস হত্যাকারী খলনায়ক জেনারেল ডায়ারের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য গান্ধীকে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু পরিস্কার মানা করে দেন! 

3. গান্ধী খিলাফত আন্দোলনকে সমর্থন করে ভারতে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বুনলেন! নিজেকে কেবল মুসলিমদের হিতৈষী হিসাবে হাভ-ভাবে বুঝিয়ে দিতেন। কেরালায় মোপলা মুসলিমরা 1500 হিন্দুকে হত্যা 2000 হিন্দুকে ধর্মান্তরিত করল! গান্ধীজি বিরোধীতা পর্যন্ত করলেন না! 

4. কংগ্রেসের ত্রিপুরা অধিবেশনে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস বিপুল সমর্থনে জয়লাভ করেন। কিন্তু গান্ধীর পছন্দের প্রার্থী ছিল সীতা রামাইয়া! সুভাষ চন্দ্র বোসকে পরে বাধ্য করা হয় ইস্তফা দেওয়ার জন্য। 

5. 23 শে মার্চ, 1931 --- ভগৎ সিংকে ফাঁসী দেওয়া হয়। সারা দেশ এই ফাঁসী আটাকানোর জন্য গান্ধীকে অনুরোধ করেন। গান্ধী ভগৎ সিং এর কার্যকলাপকে অনুচিত মনে করে এই অনুরোধ রাখেন নি! 

6. গান্ধীজি কাশ্মীরের রাজা হরি সিংকে পদত্যাগ করতে বলেন --- কারণ কাশ্মীর মুসলিম বহুল রাজ্য! উনি হরি সিংকে কাশী গিয়ে প্রায়শ্চিত্য করতে বলেন! অথচ হায়দ্রাবাদের নিজামের ক্ষেত্রে চুপ। গান্ধীজির নীতি ধর্ম বিশেষে বদলাত। পরে সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের সক্রিয়তায় হায়দ্রাবাদকে ভারতের সঙ্গে রাখা হয়। 

7. পাকিস্তান হিন্দু নিধন যজ্ঞ চলছে তখন। প্রাণ বাঁচাতে বেশ কিছু হিন্দু ভারতে চলে আসে। অস্হায়ী ভাবে আশ্রয় নেয় দিল্লীর মসজিদে। মুসলিমরা এর জন্য বিরোধীতা শুরু করে। ভয়ঙ্কর শীতের রাতে মা-বোন-বালক-বৃদ্ধ সকলকে জোর করে মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া হয়। নিরব রইলেন গান্ধী! 
 
8. গান্ধী মন্দিরে কোরান পাঠ ও নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করলেন! এর বদলে কোন মসজিদে গীতা পাঠের ব্যবস্থা করতে পারলেন না! অসংখ্য হিন্দু, ব্রাহ্মণ এর প্রতিবাদ করেছিল ---- গান্ধী আমলই দিলেন না! 

9. লাহোর কংগ্রেসে সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটৈলের জয় হল, কিন্তু গান্ধী জেদ করে এই পদ নেহেরুকে দিলেন। নিজের ইচ্ছা সফল করানোতে উনি সিদ্ধ হস্ত ছিলেন। ধর্না, অনশন, রাগ, বাক্যালাপ বন্ধ করা ---- এই কলা গুলির সাহায্যে যখন তখন ব্লাকমেল করতেন। সিদ্ধান্তের ঠিক ভুলও বিচার করতেন না। 

10. 14 ই জুন, 1947 দিল্লীতে অখিল ভারতীয় কংগ্রেস সমিতির বৈঠক ছিল। আলোচনার বিষয় ছিল ভারত বিভাজন। এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে দেশ ভাগের প্রস্তাব গান্ধী সমর্থন করলেন। এই ইনই একদিন বলেছিলেন ---- দেশ ভাগ করতে গেলে ওনার মৃত দেহের ওপর করতে হবে! লাখ লাখ হিন্দু মারা গেলেও উনি চুপ থেকেছেন! মুসলিমদের কখনো শান্তি বজায় রাখার আদেশ দেন নি ---- যত আদেশ উপদেশ শুধু হিন্দুদের ওপর! 

11. ধর্ম নিরপেক্ষতার ছদ্মবেশে "মুসলিম তোষণ" এর জন্ম দেন গান্ধী। যখন হিন্দী ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার বিরোধীতা করল মুসলিমরা ---- স্বীকার করলেন গান্ধী! অদ্ভুত এক সমাধান দিলেন --- "হিন্দুস্তানী" (হিন্দী ও' উর্দুর খিচরি)!  বাদশাহ রাম, বেগম সীতা বলার চল শুরু হল! 

12. কিছু মুসলমানের বিরোধীতায় মাথা নত করলেন আবার ---- "বন্দে মাতরম" কে জাতীয় সংগীত হতে দিলেন না! 

13. গান্ধীজি বেশ কয়েকবার ছত্রপতি শিবাজী, মহারাণা প্রতাপ, গুরু গোবিন্দ সিংহকে পথভ্রষ্ট দেশভক্ত বলেছেন! কিন্তু সেখানে মোহাম্মদ আলি জিন্নাহকে "কায়দে আজম" বলে ডাকতেন! 

14. 1931 এ জাতীয় কংগ্রেস স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকা কেমন হবে  তা নির্ধারণ করার জন্য একটি কমিটি তৈরী করে। এই কমিটি সর্ব সম্মতিতে ঠিক করেন ---- গেরুয়া বস্ত্রের পতাকা হবে যার মাঝখানে চরখা থাকবে। কিন্তু গান্ধীজির জেদে সেটা তেরঙ্গা করতে হয়! 

15. যখন সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটৈলের উদ্যোগে সোমনাথ মন্দিরের পুননির্মাণের প্রস্তাব সংসদে রাখা হয় ----- তখন উনি বিরোধীতা করলেন! এমনকি উনি মন্ত্রীমন্ডলেও ছিলেন না! কিন্তু অদ্ভুত ভাবে 13 ই জানুয়ারী, 1948 এ আমরণ অনশন শুরু করলেন --- যাতে সরকারী খরচে দিল্লীর মসজিদ তৈরী হয়! কেন এই দ্বিচারিতা? উনি হিন্দুকে হয়ত ভারতীয় ভাবতেনই না!

16. গান্ধীজির মধ্যস্হায় ঠিক হয় ---- স্বাধীনতার পর ভারত পাকিস্তানকে 75 কোটি টাকা দেবে। 20 কোটি শুরুতেই দেওয়া হয়। বাকি ছিল 55 কোটি। কিন্তু 22 শে অক্টোবর, 1947 পাকিস্তান কাশ্মীর আক্রমণ করে! পাকিস্তানের এই বিশ্বাস ঘাতকতার জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীমন্ডল সিদ্ধান্ত নেয় বাকী পয়সা আর পাকিস্তানকে দেওয়া হবে না। কিন্তু সেই বেঁকে বসলেন লাঠিধারী! শুরু করলেন আবার ব্লাকমেল --- আবার অনশন। শেষে সরকার বাকি 55 কোটি টাকাও বিশ্বাসঘাতক পাকিস্তানকে দিতে বাধ্য হল! 

এইরকম জিন্নাহ ও' অন্ধ পাকিস্তান প্রীতি দেখে বলতে পারি উনি প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপিতা ছিলেন ---- ভারতের নয়। প্রতিটি মুহুর্তে পাকিস্তানের সমর্থনে কথা বলেছেন ---- সে পাকিস্তানের দাবী যতই অন্যায় হোক! 

আদালতে দেওয়া নাথুরাম গোডসের কিছু বয়ানের বঙ্গানুবাদ। 

" আমি ওনাকে অনেক শ্রদ্ধা করি। কিন্তু কোন দেশভক্তকে দেশ ভাগ ও' একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের পক্ষপাতিত্ব করার অনুমতি দিতে পারি না। আমি গান্ধীকে মারি নি ---- বধ করেছি --- বধ। গান্ধীজিকে বধ করা ছাড়া আমার কাছে আর কোন উপায় ছিল না। উনি আমার শত্রু ছিলেন না ---- কিন্তু ওনার সিদ্ধান্ত দেশের বিপদ ডেকে আনছিল। যখন কোন ব্যক্তির কাছে আর কোন রাস্তা থাকে না তখন ঠিক কাজ করার ভুল রাস্তা নিতে হয়। 

মুসলিম লীগ ও' পাকিস্তান নির্মাণে গান্ধীজির সমর্থনই আমাকে বিচলিত করেছে। পাকিস্তানকে 55 কোটি টাকা পাইয়ে দেবার জন্য গান্ধীজি অনশনে বসেন। পাকিস্তানে অত্যাচারের জন্য ভারতে চলে আসা হিন্দুদের দুর্দশা আমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। গান্ধীজির মুসলিম লীগের কাছে মাথা নত করার জন্য অখন্ড হিন্দু রাষ্ট্র সম্ভব হয়নি। ছেলের মাকে টুকরো করে ভাগ করতে দেখা আমার অসহনীয় ছিল। নিজ দেশেই যেন বিদেশী হয়ে গেলাম। 

মুসলিম লীগের সমস্ত অন্যায় আব্দার উনি মেনে চলছিলেন। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম ---- ভারত মাতাকে পুনরায় টুকরো হওয়ার হাথ থেকে ও দুর্দশার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য আমাকে গান্ধীজির বধ করতে হবে। আর সেইজন্যই আমি গান্ধীকে বধ করেছি। 

আমি জানতাম এর জন্য আমার ফাঁসী হবে এবং আমি এর জন্য প্রস্তুত। আর এখানে যদি মাতৃভূমির রক্ষা করা অপরাধ হয় ----- তাহলে এরকম অপরাধ আমি বার বার করব ---- প্রত্যেক বার করব। আর যতক্ষণ না সিন্ধু নদী অখন্ড ভারতের মধ্যে না বাহিত হয় ---- আমার অস্থি ভাসিও না। আমার ফাঁসির সময় আমার এক হাতে কেশরীয় পতাকা ও' অন্য হাতে অখন্ড ভারতের মানচিত্র যেন থাকে। আমার ফাঁসিতে চড়ার আগে অখন্ড ভারত মাতার জয় বলতে চাই। 

হে ভারত মাতা --- আমার খুব দুঃখ যে আমি কেবল এইটুকুই তোর সেবা করতে পেরেছি ।"

"মেরে তোর হাত-পা ভেঙে দেবো। ভিখিরী কোথাকার।"

এটা কোনো প্রকারে আমার লেখা নয় । সংগৃহীত । ভালো লেগেছে তাই আমার ব্লগে পাবলিশ করা । অনধিকার পাবলিশিং এর জন্য আগে থেকেই ক্ষমা চাইছি । ধন্যবাদ ।

"মেরে তোর হাত-পা ভেঙে দেবো। ভিখিরী কোথাকার।"
দিল্লীর বিজয়নগরের এক বস্তি অঞ্চলে ছোট্ট ছেলেটি থাকে।
পরনের শতছিন্ন জামাটি ধূলিধূসরিত।
গতকাল সন্ধ্যের পর থেকে আর এক কণাও খাবার জোটেনি। ক্ষিদে পেটেই রাস্তা দিয়ে একা একা চলছে বাচ্চা ছেলেটি।
ছেলেটির মাত্র ৯ বছর বয়স। সকলে তাকে ভলু নামেই চেনে।
রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎই ভলু লক্ষ্য করে, এক দোকানে গরম গরম সিঙ্গারা ভাজা হচ্ছে।
একেই ক্ষিদেয় পেট চুঁইচুঁই করছে, তার ওপর গরম সিঙ্গারা দেখে ভলুর জিভে জল এসে গেল। মনে হলো কেউ যেন মুখের ভিতরে বয়ে চলা খরস্রোতা নদীটির বাঁধ খুলে নিয়েছে।
"কাকু", দোকানদারকে উদ্দেশ্য করে ভলু নিষ্পাপ গলায় ডেকে উঠলো।
দোকানদার ঠিক ততটাই রূঢ় কণ্ঠে বললেন "কি চাই টা কি?"
ভলু তার অসহায়তার কথা জানিয়ে বললো "আমাকে একটা সিঙ্গারা দেবে? আমার কাছে একটা পয়সাও নেই।"
"এখুনি এখান থেকে বেড়িয়ে যা বলছি"। অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সুরে দোকানদার বলে উঠলেন।
ক্ষুধার্ত ভলুর শুকনো ঠোঁট দুটো দোকানদারের বিশ্বাস অর্জনের শেষ একটা চেষ্টা করলো "কাল রাত থেকে কোনো খাবার পাইনি কাকু, খুব ক্ষিদে পেয়েছে। দাও না একটা সিঙ্গারা।"
"ভাগ এখান থেকে, নাহলে মেরে হাত পা ভেঙে দেবো। সালা ভিখারী।"
ভলু ভয় পেয়ে দু'পা পিছিয়ে যায়।
কিছুক্ষণ পরে দোকানদার নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ক্ষিদের জ্বালায় ভলুর ভয়ও ততক্ষনে বেশ কিছুটা স্তিমিত হয়ে পরেছে।
মনে সাহস সঞ্চয় করে, ছোট্ট ছোট্ট পায়ে ভলু সামনের দিকে এগিয়ে আসে। নিশ্চুপে প্লেট থেকে একটা সিঙ্গারা তুলে নেয়।
কিন্তু এই ঘটনা দোকানদারের নজর এড়ালো না। ভয়ানক রেগে গিয়ে তিনি চিৎকার করে উঠলেন "জানোয়ার। সালা চোর। এত সাহস হয় কি করে তোর"। গর্জে উঠে ভলুর হাত মুচড়িয়ে দেয় তিনি।
"কাকু ছেড়ে দাও আমার হাত। আমি চুরি করিনি, সিঙ্গারা গুলোতে হাত দিয়েছিলাম কেবল।" আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে ভলু।
"ওহ মা…আমার হাত"। যন্ত্রণায় ডুকরে কেঁদে ওঠে ছোট্ট ছেলেটি।
কিন্তু দোকানদার তাতে কর্ণপাত পর্যন্ত করলেন না। নিষ্ঠুর ভাবে ভলুর হাতে-পিঠে আঘাত করতে লাগলেন। ভলুর কনুই পর্যন্ত মুচড়ে দিলেন।
ছোট্ট ছেলেটির অবস্থা তখন মৃতপ্রায়।
ছোট্ট দুটো হাত দিয়ে মাথাটা ঢেকে রাস্তাতেই বসে পড়লো ভলু। যেন বলতে চাইছে, "আমাকে যত খুশি মারো, কিন্তু আমার মাথায় আঘাত করো না।"
মার খেতে খেতে ভলুর চারিদিক যেন কিছুক্ষনের জন্য অন্ধকার হয়ে গেল। সে আর নিশ্বাস-প্রশ্বাসও ঠিক ভাবে নিতে পারছে না।
সারা শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা। মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছে। পিঠে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। সম্ভবত ভলুর হাতটাও ভেঙে গেছে।
তীব্র যন্ত্রণায় কেঁদে ওঠে ভলু। শরীরের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে ছুটতে থাকে ভলু। নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে ছুটতে থাকে।
দিল্লীর এক বস্তিতে থাকে ভলু। নোংরা , অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেই সে বড় হয়ে উঠছে। সরু সরু গলি ঘুপচির মধ্যে দুজন মানুষ পর্যন্ত পাশাপাশি হেঁটে যেতে পারবে না। সেই পথ দিয়েই ভলু দৌঁড়ে চলেছে।
একটা ছাদের তলায় এসে ভলু থামলো। এটাই নাকি এই ছোট্ট ছেলেটির ঘর। পুরোনো জীর্ণ একটা প্লাস্টিকের চেয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে পড়লো। দেওয়ালে টাঙানো মায়ের হাসিমুখের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে ভলু অঝোরে কাঁদতে থাকে।
"মা তুমি কোথায়?"
"আমার খুব ক্ষিদে পেয়েছে।"
"মা, তুমি জানো, ওই দোকানদারটার কাছে একটা সিঙ্গারা চেয়েছিলাম বলে আমার হাত ভেঙে দিয়েছে।"
"আমাকে জানোয়ার বলেছে। বলেছে আমি নাকি চোর। আমাকে খুব মেরেছে, মা।"
"খুব যন্ত্রনা হচ্ছিলো আমার। আমি আর সহ্য করতে পারছিলাম না। আমার কনুই পর্যন্ত মুচড়ে দিয়েছে।"
"মা , তুমি তো আমাকে সবসময় বলতে আমি ঠিক মতো খাবার না খেলে, তুমি চলে যাবে। আমি কথা দিচ্ছি তুমি যা বলবে সব করবো, যা খেতে দেবে সব খাবো। তুমি ফিরে এসো মা"।
দেওয়ালে টাঙানো মা এর নিষ্প্রাণ ছবি কেবল অসহায়ের মতো হাসতে থাকে।
হঠাৎই, ভলুর এই ছোট্ট ঘরে এক ভদ্রমহিলা আসলেন।
তিনি একজন সমাজ সেবিকা।
ভলুর দিকে তাকিয়ে বললেন "তুমি তোমার মা-বাবাকে একটু ডেকে দেবে? ওনাদের সাথে কিছু কথা আছে।"
ভলু কিছুই বলে না। নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে ক্রমাগতভাবে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে চলে।
"কি হয়েছে তোমার হাতে?"
ভলু তাও কোনো উত্তর দেয় না। যন্ত্রণায় সে কেঁদেই চলেছে।
ভদ্রমহিলা ভলুকে সাথে করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ডাক্তারবাবু ভলুর হাতে প্লাস্টার করে দিলেন।
মিসেস ডিসুজা ভলুর জীবন সম্পর্কে সবকিছু জানতে পারলেন। এক মাতৃস্নেহে তাঁর হৃদয় উদ্বেলিত হয়ে ওঠে।
তিনি ভলুকে জিজ্ঞাসা করলেন
"তুমি পড়াশোনা করবে?"
ভলু মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়।
কিন্তু পরমুহূর্তেই কি যেন একটা চিন্তা করতে থাকে।
"আর খাবার"? ভলু খুব উদ্বিগ্ন হয়ে জানতে চায়।
"তোমাকে আর খাবার নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। শুধু মন দিয়ে পড়াশোনা করো। কেমন?"
"আর আমাকে এখন থেকে মা বলে ডেকো"। আলতো করে নিজের স্নেহের হাতটা ভলুর মাথায় রেখে সহাস্য মুখে তাকালেন মিসেস জেব্রিয়ানা ডিসুজা।
"ঠিকাছে মা"। ভলু অনায়াসে এমন ভাবে বলে উঠলো যেন তার রোজকার যাবতীয় সমস্যার সমস্ত সমাধান সে খুঁজে পেয়ে গেছে।
ভলু আর বস্তির ছেলে নেই।
কনভেন্ট স্কুল থেকে পড়াশোনা করে সে এখন উচ্চশিক্ষার জন্য লন্ডনে পারি দিয়েছে।
ভলু এখন একজন উচ্চশিক্ষিত যুবক। লন্ডন থেকে ফিরে এসে সে চশমার একটি নতুন ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠা করে। তার নতুন মা, হয়তো সাক্ষাৎ ভগবান, তাঁর নাম অনুযায়ী সে তার ব্র্যান্ডের নামকরণ করে 'জেব্রিয়ানা'। বর্তমান যুগে অতিরিক্তি মোবাইল আর ল্যাপটপ ব্যবহারের ফলে চোখে যে অতিরিক্ত প্রেসার পরে, তা রোধ করতে এই ব্র্যান্ডের চশমার জুড়ি মেলা ভার।
"আজকের খাবারের কন্টেনারগুলো সব রেডি তো?" ভলু ভাস্কর তার এসিস্ট্যান্টকে জিজ্ঞাসা করে।
"হ্যাঁ স্যার। প্রায় রেডি। আর মাত্র চারটে কন্টেনার প্যাক করা বাকি" এসিস্ট্যান্ট জানায়।
"ঠিক আছে। তাড়াতাড়ি করো। আজ আমরা মদনপুর বস্তিতে যাবো। সমস্ত খাবার ওখানকার ফুটপাতে যারা থাকে, তাদের মধ্যে ভাগ করে দেবো। আর যদি কিছু বেঁচে যায়, তবে রাতে যারা ওখানে আশ্রয় নেয় তাদেরকেও দিয়ে আসবো।" ভলু ভাস্কর নির্দেশ দেয় তার এসিস্ট্যান্টকে এবং নিজের কোম্পানি জেব্রিয়ানার অন্যুয়াল রেভিনিউ চেক করতে শুরু করেন।
বেশিরভাগ সময়ই টেকনিশিয়ান, রিসার্চার আর সাপ্লায়ারদের দ্বারাই পরিবেষ্টিত থাকে এখন ভলু। তারা অবশ্য তাকে মিস্টার ভাস্কর নামেই চেনেন।
ভলুর মায়ের সেই ছবিটা আজও দেওয়ালে সুন্দর ভাবে টাঙানো আছে। তার কেবিনে চেয়ারের ঠিক পেছনটাতে।
কিন্তু আজ আর মায়ের মুখে সেই অসহায়ের হাসিটা নেই। বরং তাঁর চোখে মুখে গর্বের যে উজ্জ্বল হাসিটা দেখা যাচ্ছে তা পরিমাপ করা সম্ভব নয় কোনোভাবেই।
মায়ের কাছে মিস্টার ভাস্কর আজও সেই ছোট্ট ভলু। চিরকাল তাইই থাকবে।
আমি আগে মনে করতাম, ঈশ্বরের অস্তিত্ব হয়তো নেই। কিন্তু আজ বুঝতে পারি, কোথাও একটা চূড়ান্ত কোনো শক্তি অবশ্যই বিরাজ করছে। উপযুক্ত মুহূর্তে আমাদের সাহায্য করার জন্য সে তার সৈনিককে ঠিক প্রেরণ করবে।
জীবনে এই সত্যিটাই হয়তো শিখতে গিয়ে খুব দেরি হয়ে গেলো।


অখন্ড ভারতবর্ষের ইতিহাস

আফগানিস্তানকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয় ১৮৭৬ সালে, নেপাল বিচ্ছিন্ন হয় ১৯০৪ সালে, ১৯০৬ সালে ভুটান, ১৯০৭ সালে তিব্বত (আংশিক), ১৯৩৫ সালে তিব্বত (বাকী অংশ), মায়ানমার ১৯৩৭ সালে এবং সবশেষে পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন হয় ১৯৪৭ সালে। সবশেষে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম হয়।

শ্রীলঙ্কার অতীতে নাম ছিল সিংহলদ্বীপ যা পরবর্তীকালে সিলন(Ceylon) নামে পরিচিত হয়েছিল। অশোকের রাজত্বকালে এর নাম ছিল তাম্রপর্ণী। অশোকের পুত্র মহেন্দ্র সেখানে গেছিলেন বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করতে। 

আফগানিস্তানের প্রাচীন নাম ছিল উপগণস্থান। কান্দাহার ছিল গান্ধার। ১৮৭৬ সালে ব্রিটেন ও রাশিয়ার মধ্যে গান্দামক চুক্তির ফলে আফগানিস্তানকে একটি পৃথক দেশ হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। 

 মায়ানমার প্রাচীনকালে ব্রহ্মদেশ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৩৭ সালে এটিকে পৃথক দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। প্রাচীনকালে আনন্দব্রত নামক হিন্দু রাজা এখানে শাসন করেছেন। 

নেপাল যার প্রাচীন নাম ছিল দেওধর সেখানকার লুম্বিনিতে বুদ্ধ ও জনকপুরে সীতা জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫১ সালে মহারাজ ত্রিভূবন সিংহ নেপালের ভারতে সংযুক্তিকরণের আবেদনকে নেহরু প্রত্যাখ্যান করেন। 

তিব্বতের প্রাচীন নাম ছিল ত্রিবিষ্টম। ১৯০৭ সালে ব্রিটেন ও চীনের মধ্যে একটি চুক্তির ফলে তিব্বতের একটি অংশ চীন ও আরেকটি অংশ লামাকে দেওয়া হয়। 

সংস্কৃতে ভূ উত্থান শব্দ থেকে নামকরণ হয় ভুটান, যাকে ১৯০৬ সালে একটি পৃথক দেশ হিসেবে ব্রিটিশরা মান্যতা দেয়।

#সংগৃহীত 

ভারত বর্ষের প্রায় ৪ হাজার বছরের রাজত্বকাল

মহাভারতে উল্লেখিত কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পরবর্তী  রাজাদের তালিকাঃ ইন্দ্রপ্রস্থের শেষ রাজা যশপাল। যুধিষ্ঠির থেকে যশপাল পর্যন্ত ১২৪ জন রাজা রাজত্ব করেছিলেন মোট ৪,১৭৫ বছর ৯ মাস ১৪ দিন। এরই মধ্যে রাজা যুধিষ্ঠির প্রভৃতি আনুমানিক ৩০ পুরুষ ১৭৭০ বছর ১১ মাস ১০ দিন রাজত্ব করে।  

০১। রাজা যুধিষ্ঠির = ৩৬ বছর ৯ মাস ১৪ দিন।
০২। রাজা পরীক্ষিত = ৬০ বছর ৮ মাস ২৫ দিন।
০৩। রাজা জনমেজয় = ৮৪ বছর ৭ মাস ২৩ দিন।
০৪। রাজা অশ্বমেধ = ৮২ বছর ৮ মাস ৩২ দিন।
০৫। দ্বিতীয় রাম = ৮৮ বছর ২ মাস ৮ দিন।
০৬। ছত্রমল = ৮১ বছর ১১ মাস ২৭ দিন।
০৭। চিত্ররথ = ৭৫ বছর ৩ মাস ১৮ দিন।
০৮। দুষ্টশৈল্য = ৭৫ বছর ১০ মাস ২৪ দিন।
০৯। রাজাউগ্র সেন = ৭৮ বছর ৭ মাস ২১ দিন।
১০। শূরসেন = ৭৮ বছর ৭ মাস ২১ দিন।
১১। ভুবনপতি = ৬৯ বছর ৫ মাস ৫ দিন।
১২। রণজিৎ = ৬৫ বছর ১০ মাস ৪ দিন।
১৩। ঋক্ষক = ৬৪ বছর ৭ মাস ৪ দিন।
১৪। সুখদেব = ৬২-০-২৪
১৫। নরহরিদেব = ৫১-১০-০২
১৬। সুচিরথ = ৪২-১১-০২
১৭। শূরসেন (২য়) = ৫৮-১০-০৮
১৮। পর্বতসেন = ৫৫-০৮-১০
১৯। মেধাবী = ৫২-১০-১০
২০। সোনচীর = ৫০-০৮-২১
২১। ভীমদেব = ৪৭-০৯-২০
২২। নৃহরিদেব = ৪৫-১১-২৩
২৩। পূর্ণমল = ৪৪-০৮-০৭
২৪। করদবী = ৮৮-১০-০৮
২৫। অলংমিক = ৫০-১১-০৮
২৬। উদয়পাল = ৩৮-০৯-০
২৭। দুবনমল = ৪০-১০-২৬
২৮। দমাত = ৩২-০-০
২৯। ভীমপাল = ৫৮-০৫-০৮
৩০। ক্ষেমক = ৪৮-১১-২১ 

পাণ্ডু বংশের রাজত্ব এখানেই শেষ হয়ে যায়। রাজা ক্ষেমকের প্রধান মন্ত্রী বিশ্রবা ক্ষেমক রাজাকে নিহত করে সিংহাসন অধিকার করে ও পরবর্তীতে তাঁর ১৪ পুরুষ ৫০০ বছর ৩ মাস ১৭ দিন রাজত্ব করে।

১। বিশ্রবা = ১৭-০৩-২৯
২। পুরসেনী = ৪২-০৮-২১
৩। বীরসেনী = ৫২-১০-০৭
৪। ফবঙ্গশায়ী = ৪৭-০৮-২৩
৫। হরিজিৎ = ৩৫-০৯-১৭
৬। পরমসেনী = ৪৪-০২-২৩
৭। সুখপাতাল = ৩০-০২-২১
৮। কদ্রুত = ৪২-০৯-২৪
৯। সজ্জ = ৩২-০২-১৪
১০। ফমরচূড় = ২৭-০৩-১৬
১১। অমীপাল = ২২-১১-২৫
১২। দশরথ = ২৫-০৪-১২
১৩। বীরসাল = ৩১-০৮-১১
১৪। বীরসালসেন = ৪১-০০-১৪

রাজা বীরসাল সেনের প্রধান মন্ত্রী বীরমহা প্রধান তাঁহাকে হত্যা করে রাজ্যাধিকার করে। তাঁর বংশ ১৬ পুরুষ ৪৪৫ বৎসর ৫ মাস ৩ দিন রাজত্ব করে।

১। রাজা বীরমহা = ৩৫-১০-০৮
২। অজিত সিংহ = ২৭-০৭-১৯
৩। সর্বদত্ত = ২৮-০৩-১০
৪। ভুবনপতি = ১৫-০৪-১০
৫। বীরসেন (প্রথম) = ২১-০২-১৩
৬। মহীপাল = ৪০-০৮-০৭
৭। শত্রুশাল = ২৬-০৪-০৩
৮। সঙ্গরাজ = ১৭-০২-১০
৯। তেজপাল = ২৮-১১-১০
১০। মানিক চাঁদ = ৩৭-০৭-২১
১১। কামসেনী = ৪২-০৫-১০
১২। শত্রুমর্দন = ০৮-১১-১৩
১৩। জীবনলোক = ২৮-০৯-১৭
১৪। হরিরাও = ২৬-১০-২৯
১৫। বীরসেন (২য়) = ৩৫-০২-২০
১৬। আদিত্যকেতু = ২৩-১১-১৩

প্রয়োগের রাজা ‘ধন্ধব’ মগধদেশের রাজা আদিত্য কেতুকে হত্যা করে রাজ্যাধিকার করে। তাঁহার বংশ ৯ পুরুষ, ৩৭৪ বছর ১১ মাস ২৬ দিন রাজত্ব করে। 

১। রাজা ধন্ধর = ৪২-০৭-২৪
২। মহর্ষি = ৪১-০২-২৯
৩। সনরচ্চী = ৫০-১০-১৯
৪। মহাযুদ্ধ = ২০-০৩-০৮
৫। দূরনাথ = ২৮-০৫-২৫
৬। জীবনরাজ = ৪৫-০২-০৫
৭। রুদ্রসেন = ৪৭-০৪-২৮
৮। অরীলক = ৫২-১০-০৮
৯। রাজপাল = ৩৬-০০-০০

সামন্ত মহান পাল রাজা রাজপালকে হত্যা করে রাজ্যাধিকার করে। সামন্ত মহান পালের ১ পুরুষ ১৪ বছর রাজত্ব করেছেন ও তাঁর কোন বৃদ্ধি নেই। এরপর রাজা বিক্রমাদিত্য অবন্তিকা (উজ্জায়নী) হইতে আক্রমণ চালাইয়া রাজা মহানপালকে হত্যা করে রাজ্যাধীকার করেন। তাঁহার বংশ ১ পুরুষ ৩৯ বছর রাজত্ব করেন। তাঁহারও কোন বৃদ্ধি নাই। শালিবাহনের মন্ত্রী সমুদ্রপাল, যোগীপৈঠনের রাজা বিক্রমাদিত্যকে হত্যা করে রাজ্যাধিকার করেন এবং তাঁহার বংশ ১৬ পুরুষ, ৩৭২ বছর, ৪ মাস ২৭ দিন রাজত্ব করেন। 

১। সমুদ্রপাল = ৫৪-০২-২০
২। চন্দ্রপাল = ৩৬-০৫-০৪
৩। সাহায়পাল = ১১-০৪-১১
৪। দেবপাল = ২৭-০১-১৭
৫। নরসিংহপাল = ১৮-০০-২০
৬। সামপাল = ২৭-০১-১৭
৭। রঘুপাল = ২২-০৩-২৫
৮। গোবিন্দপাল = ২৭-০১-১৭
৯। অমৃতপাল = ৩৬-১০-১৩
১০। বলীপাল = ১৩-০৮-০৪
১১। মহীপাল = ১৩-০৮-০৪

রাজা মহাবাহু রাজ্য পরিত্যাগ করিয়া তপস্যার্থে বনে গমন করেন। ইহা শুনিয়া বঙ্গ দেশের রাজা আধীসেন ইন্দ্রপ্রস্থে আসিয়া নিজে রাজত্ব করেন। তাঁর বংশ ১২ পুরুষ, ১৫১ বৎসর ১১ মাস ২ দিন রাজত্ব করে। 

১। রাজা আধীসেন = ১৮-০৫-২১
২। বিলাবলসেন = ১২-০৪-০২
৩। কেশবসেন = ১৫-০৭-১২
৪। মাধবসেন = ১২-০৪-০২
৫। ময়ূরসেন = ২০-১১-২৭
৬। ভীমসেন = ০৫-১০-০৯
৭। কল্যানসেন = ০৪-০৮-২১
৮। হরিসেন = ১২-০০-২৫
৯। ক্ষেমসেন = ০৮-১১-১৫
১০। নারায়ণসেন = ০২-০২-২৯
১১। লক্ষ্মীসেন = ২৬-১০-০০
১২। দামোদর সেন = ১১-০৫-১৯

রাজা দামোদরসেন তাঁর পাত্রমিত্রদিগকে অনেক কষ্ট দিতেন। এই নিমিত্ত তাঁর জনৈক পাত্রমিত্র দীপ্তসিংহ সৈন্য সংগ্রহ করিয়া তাঁহার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ও তাঁকে যুদ্ধে নিহত করে স্বয়ং রাজত্ব করেন এবং  তাঁহার বংশ ৬ পুরুষ, ১০৭ বৎসর ৬ মাস ২ দিন রাজত্ব করে। 

১। দীপসিংহ = ১৭-০১-১৬
২। রাজসিংহ = ১৪-০৫-০০
৩। রণসিংহ = ০৯-০৮-১১
৪। নরসিংহ = ১৩-০২-২৯
৬। জীবনসিংহ = ০৮-০০-০১

কোন কারণ বশতঃ রাজা জীবনসিংহ তাঁহার সমস্ত সৈন্য উত্তরদিকে প্রেরণ করেন। বৈরাটের রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহান সেই সংবাদ পেয়ে জীবনসিংহকে আক্রমণ করেন এবং তাঁহাকে যুদ্ধে নিহত করিয়া ইন্দ্রপ্রস্থে রাজত্ব করেন এবং তাঁর বংশ ৫ পুরুষ, ৮৬ বৎসর ০ মাস ২০ দিন রাজত্ব করেছেন। 

১। পৃথ্বী রাজ = ১২-০২-১৯
২। অভয়পাল = ১৪-০৫-১৭
৩। দুর্জ্জব পাল = ১১-০৪-১৪
৪। উদয়পাল = ১১-০৭-০৩
৫। যশপাল = ৩৬-০৪-২৭

১২৪৯ সালে গজনীর দুর্গ হতে সুলতান শাহাবুদ্দিন ঘোরী যশপালকে আক্রমণ করে তাঁকে প্রয়োগের দুর্গে বন্ধী করে- অতঃপর সুলতান শাহাবুদ্দিন ইদ্রপ্রস্থে (দিল্লীতে) রাজত্ব করিতে আরম্ভ করে। তাঁর বংশ ৫৩ বৎসর, ১ মাস ও ১৭ দিন রাজত্ব করেছে। 

ইন্দ্রপ্রস্ত তথা আর্যাবর্তের সকল রাজাদের ধারাবাহিক পরিচিতি ও রাজত্ব কালের পরিচয় প্রথম বারের মতো তুলে ধরেছিলেন মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী জী। 

মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী এই তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন রাজপুতনার অন্তর্গত উদয়পুর মেদার রাজ্যের রাজধানী, চিতোরগড়ের শ্রিনাথদ্বার হতে প্রকাশিত ও বিদ্যার্থী সম্মিলিত হরিশ্চন্দ্র চন্দ্রিকা এবং মোহঞ্চন্দ্রিকা নামক পাক্ষিক পত্রিকা হতে। উক্ত পত্রিকাদ্বয়ের সম্পাদক মহাশয় ১৭৮২ বিক্রমাব্দে লিখিত একখানি গ্রন্থ তাহার কোন বন্ধুর নিকট হতে প্রাপ্ত হয়ে তা থেকে সংগ্রহ করে প্রচলিত ১৯৩৯ সালে মুদ্রন করেন।
▪️সংগৃহীত।

-- দারিদ্র্য দহন শিব স্তোত্রম --

 দারিদ্র্যদহনশিবস্তোত্রম্

 বিশ্বেশ্বরায় নরকার্ণবতারণায় কর্ণামৃতায় শশিশেখরধারণায় ।
কর্পূরকান্তিধবল়ায় জটাধরায় দারিদ্র্যদুঃখদহনায়
নমঃ শিবায় ॥১॥

গৌরিপ্রিয়ায় রজনীশকলাধরায় কালান্তকায় ভুজগাধিপকঙ্কণায় ।
গঙ্গাধরায় গজরাজবিমর্দনায় দারিদ্র্যদুঃখদহনায় 
নমঃ শিবায় ॥২॥

ভক্তিপ্রিয়ায় ভবরোগভয়াপহায় উগ্রায় দুর্গভবসাগরতারণায় ।
জ্যোতির্ময়ায় গুণনামসুনৃত্যকায় দারিদ্র্যদুঃখদহনায় 
নমঃ শিবায় ॥৩॥

চর্মাম্বরায় শবভস্মবিলেপনায় ভালেক্ষণায় মণিকুণ্ডলমণ্ডিতায় ।
মঞ্জীরপাদয়ুগল়ায় জটাধরায় দারিদ্র্যদুঃখদহনায় 
নমঃ শিবায় ॥৪॥

পঞ্চাননায় ফণিরাজবিভূষণায় হেমাংশুকায় ভুবনত্রয়মণ্ডিতায় ।
আনন্দভূমিবরদায় তমোময়ায় দারিদ্র্যদুঃখদহনায় 
নমঃ শিবায় ॥৫॥

ভানুপ্রিয়ায় ভবসাগরতারণায় কালান্তকায় কমলাসনপূজিতায় ।
নেত্রত্রয়ায় শুভলক্ষণলক্ষিতায় দারিদ্র্যদুঃখদহনায় 
নমঃ শিবায় ॥৬॥

রামপ্রিয়ায় রঘুনাথবরপ্রদায় নাগপ্রিয়ায় নরকার্ণব তারণায় ।
পুণ্যেষু পুণ্যভরিতায় সুরার্চিতায় দারিদ্র্যদুঃখদহনায় 
নমঃ শিবায় ॥৭॥

মুক্তেশ্বরায় ফলদায় গণেশ্বরায় গীতপ্রিয়ায় বৃষভেশ্বরবাহনায় ।
মাতঙ্গচর্মবসনায় মহেশ্বরায় দারিদ্র্যদুঃখদহনায় 
নমঃ শিবায় ॥৮॥

বসিষ্ঠেন কৃতং স্তোত্রং সর্বরোগনিবারণম্ ।
সর্বসম্পৎকরং শীঘ্রং পুত্রপৌত্রাদিবর্ধনম্ ।
ত্রিসন্ধ্যং যঃ পঠেন্নিত্যং স হি স্বর্গমবাপ্নুয়াৎ ॥৯॥

ইতি শ্রীবসিষ্ঠবিরচিতং দারিদ্র্যদহনশিবস্তোত্রং সম্পূর্ণম্।
_____________

আদ্যা স্তোত্র

আদ্যা স্তোত্র
ওঁ নম আদ্যায়ৈ ।
শৃণু বৎস প্রবক্ষ্যামি আদ্যাস্তোত্রং মহাফলাম ।
যঃ পঠেৎ সততং ভক্ত্যা স এব বিষ্ণুবল্লভঃ ।।
মৃত্যুর্ব্যাধিভয়ং তস্য নাস্তি কিঞ্চিতঃ কলৌ যুগে ।
অপুত্রো লভতে পুত্রং ত্রিপক্ষং শ্রবণং যদি ।।
দ্বৌ মাসৌ বন্ধনান্মুক্তিঃ বিপ্রর্বক্ত্রাতঃ শ্রুতং যদি ।
মৃতবত্সা জীববত্সা ষণ্মাসং শ্রবণং যদি ।।
নৌকায়াং সঙ্কটে যুদ্ধে পঠনাজ্জয়মাপ্নুয়াতঃ ।
লিখিত্বা স্থাপয়েদঃগেহে নাগ্নিচৌরভয়ং ক্বচিতঃ ।।
রাজস্থানে জয়ী নিত্যং প্রসন্নাঃ সর্ব্বদেবতা ।
ঔং হ্রীং ব্রহ্মাণী ব্রহ্মলোকে চ বৈকুণ্ঠে সর্ব্বমঙ্গলা ।।
ইন্দ্রাণী অমরাবত্যামবিকা বরুণালয়ে ।
যমালয়ে কালরূপা কুবেরভবনে শুভা ।।
মহানন্দাগ্নিকোনে চ বায়ব্যাং মৃগবাহিনী ।
নৈঋত্যাং রক্তদন্তা চ ঐশাণ্যাং শূলধারিণী ।।
পাতালে বৈষ্ণবীরূপা সিংহলে দেবমোহিনী ।
সুরসা চ মণীদ্বিপে লঙ্কায়াং ভদ্রকালিকা ।।
রামেশ্বরী সেতুবন্ধে বিমলা পুরুষোত্তমে ।
বিরজা ঔড্রদেশে চ কামাক্ষ্যা নীলপর্বতে ।।
কালিকা বঙ্গদেশে চ অযোধ্যায়াং মহেশ্বরী ।
বারাণস্যামন্নপূর্ণা গয়াক্ষেত্রে গয়েশ্বরী ।।
কুরুক্ষেত্রে ভদ্রকালী ব্রজে কাত্যায়নী পরা ।
দ্বারকায়াং মহামায়া মথুরায়াং মাহেশ্বরী ।।
ক্ষুধা ত্বং সর্ব্বভূতানাং বেলা ত্বং সাগরস্য চ ।
নবমী শুক্লপক্ষস্য কৃষ্ণসৈকাদশী পরা ।।
 দক্ষসা দুহিতা দেবী দক্ষযজ্ঞ বিনাশিনী ।
রামস্য জানকী ত্বং হি রাবণধ্বংসকারিণী ।।
চণ্ডমুণ্ডবধে দেবী রক্তবীজবিনাশিনী ।
নিশুম্ভশুম্ভমথিনী মধুকৈটভঘাতিনী ।।
বিষ্ণুভক্তিপ্রদা দুর্গা সুখদা মোক্ষদা সদা ।
আদ্যাস্তবমিমং পুণ্যং যঃ পঠেতঃ সততং নরঃ ।।
সর্ব্বজ্বরভয়ং ন স্যাতঃ সর্ব্বব্যাধিবিনাশনমঃ ।
কোটিতীর্থফলং তস্য লভতে নাত্র সংশয়ঃ ।।
জয়া মে চাগ্রতঃ পাতু বিজয়া পাতু পৃষ্ঠতঃ ।
নারায়ণী শীর্ষদেশে সর্ব্বঙ্গে সিংহবাহিনী ।।
শিবদূতী উগ্রচণ্ডা প্রত্যঙ্গে পরমেশ্বরী ।
বিশালাক্ষী মহামায়া কৌমারী সঙ্খিনী শিবা ।।
চক্রিণী জয়ধাত্রী চ রণমত্তা রণপ্রিয়া ।
দুর্গা জয়ন্তী কালী চ ভদ্রকালী মহোদরী ।।
নারসিংহী চ বারাহী সিদ্ধিদাত্রী সুখপ্রদা ।
ভয়ঙ্করী মহারৌদ্রী মহাভয়বিনাশিনী ।।

ইতি ব্রহ্মযামলে ব্রহ্মনারদসংবাদে আদ্যস্তোত্রং সমাপ্তং ।।

ওঁ নম আদ্যায়ৈ। ওঁ নম আদ্যায়ৈ । ওঁ নম আদ্যায়ৈ ।।

মূল্যহীন ভালোবাসা

মূল্যহীন ভালোবাসা -- তো মূল্যহীন পৃথিবী
কঠিন বাস্তব তারই কল্পচিত্র ,
ভালোবাসা আজ হারিয়ে যায় শরীরের শিল্পতায়
মনের হৃদ্রতা খুবই স্বল্প ...!!

হাপর চলে হৃদয়ে - শত সহস্র হাপর
কামার-শালার অগ্নি নির্গমন লাল শিখা ;
এই অগ্নির তেজ এমনই যে ,
           সব ধরনের লোহা এখানে গলবেই ------।

 তুমি বসে আমার সামনে -- আপন কাজে
আমি আমার মতো , আর ----
ভালোবাসা !! এখানে উদ্বায়ী ।

তবুও আগুন এসে গ্রাস করে --- দুজনকেই
মিশে যায় এ-ওর শরীরের
উষ্ণ ঘ্রানের শিল্পতা মেশানো ছবি ,
শান্ত এখন, অশান্ত নদীর তুফান স্নানের শেষে...... ।

তবুও মনে হয় , ভালোবাসা !!  
সে তো মূল্যহীন ।।

--- ৹৹৹ ---

শ্রাবণী

আমি চলেছি  পথের বাঁকে হারিয়েছি তোমাকে শ্রাবণী ! শ্রাবস্তী নগরী পার হয়ে তুমি            ত্রস্তা ধরণীর বুকে মিশেছ। তুমি সুখী হয়েছ তো ...