বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬

~~ ভবিষ্যৎ পাথেয় ~~

ভবিষ্যৎ পাথেয়

 

 বিদায় বিদায় বলে যেওনা ভুলে ----

এ বিদায়  তো সে বিদায় নয়।

ক্ষণিকের তরে যেতেছ ছেড়ে

পুরাতন পাঠশালা !

নতুন পাবে পুরাতন ভুলিবে

 তবু করো নাকো হেলা।

প্রকৃতির নিয়মে কেউ কোথায়ও ---

থাকেনা বাঁধা একবেলা।

 

প্রতি প্রত্যুষে রবিদাদা আসেন

খুন মাখা দেহ নিয়ে।

যান চলে তিনি সাঁঝবেলা

মিটি মিটি তারা দিয়ে।

আমরা ছাড়িব না ! -- এমন তো হয় না ; 

                        প্রকৃতির নিয়মে আমরা যে বাঁধা।

 

পৃথিবী ঘুরিছে --- আমরাও ঘুরিব

ভবঘুরে কল্প।

ভবিষ্যৎ প্রদীপ জাজ্বল্যমান করিতে

কর্ম হতে হবো না কখনো ক্ষান্ত।

রহিল পণ , -- চেষ্টা করিব আপ্রাণ ;--

রাখিতে পনান্ত।

 

জীর্ণ পোশাক বদলে কেবা ---

দেহ , নতুন পোশাক পরে  , .....!

কুবের' ছাড়িয়া আত্মা মোদের

নতুন দেহ ধরে।

আমরা কি করিয়া রহিব স-স্থানে ?

 

অগ্নি মোদের ডাকিছে আজি হাতছানি দিয়ে ,

পরীক্ষা দিতে হবে , -- ব্রহ্মা তাই আসিছেন ছুটে।

ইন্দ্র আছেন , -- নষ্ট করিতে অহল্যারে ,

মুনিবর আছেন হাল ধরিতে শক্ত হাতে ----

জুটিবে অভিশাপ ইন্দ্রের ভালে।

 

আজি , এই বিদায়ের ক্ষনে উঠিতেছে মনে

হৃদয়ের কত কথা!

ভুল যদি করি কোন গুরু মহাশয়ের 'পরে

ক্ষমা করিয়া তিনি -- করিবেন আশীর্বাদ।

তাহাই হইবে মোদের পারানির কড়ি ---

তাহাই হইবে মোদের ভবিষ্যৎ পাথেয় ।।

বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬

শ্রাবণী

আমি চলেছি  পথের বাঁকে
হারিয়েছি তোমাকে শ্রাবণী !
শ্রাবস্তী নগরী পার হয়ে তুমি
           ত্রস্তা ধরণীর বুকে মিশেছ।

তুমি সুখী হয়েছ তো ?

ভালোবাসার মহার্ঘ্যভাতা পাইনি আমি
শুধু করের বোঝা চেপেছে।
শোধ দিতে না পেরে - হয়েছি দেউলিয়া ;
শুয়েছি ধুলার প্রাসাদে -
শুধু  তোমারই জন্যে - শ্রাবণী !

তুমি সুখী হয়েছ তো ?

আজ এই ক্রান্তিকালীন সময়ে
দেখে যেও একটি বার , অমৃতশয়ানে
আছি যে তোমারি পথ চেয়ে
 বৃথা  ফিরায়ো না -- শ্রাবণী !!

আমি  যে ভালোবাসার মহার্ঘ্যভাতা পেতে চায়।

--- ০০০ ---

প্রতিভা

প্রতিভা,
তোমারে কখনো তো আমি দেখিনি
তবুওঃ তোমার স্বপ্নালু নীলাভ আঁখি
সন্ধ্যার অন্ধকারে ভেসে ওঠে;
পল্লবিত করে শীতে ঝরে পড়া পাতা,----
বর্ষার তেজে সচেতন হয়ে ওঠে,
বসন্তের দক্ষিণা হওয়ায় সবই ----
গুলিয়ে যাচ্ছে, শুধুই ------- ।

প্রতিভার জ্বালায় পৃথিবীর কোণে
ডাক পড়েছে,
ধ্রুবতারা জ্বলে উঠেছে,
গ্রহান্তরে খুঁজে বেড়ায় -----
সেই কোমল কোরক অব্যক্ত অবয়ব;
লুকানো গভীর মর্মর ব্যাথা -----
নিশ্চল হয়ে দেখি।

প্রতিভা,
তোমার মেঘের মতো এলোমেলো চুলগুলি
সৌরভের মাদকতা --- সর্বশরীরে ;
প্রতিভা! সত্যি চুরি হয়ে গেছে
শরীরের রিক্ত জীবনের মৃত্যু মেদ;
ঝলমলে বর্ণময় কান্তি;
উজ্জ্বল হৃদয়।

প্রতিভা, নির্জন প্রকোষ্ঠে ফুটিয়েছে
তার অ'মৃতহীন উঠতি শরীর
উষ্ণ আলিঙ্গনের তৃপ্তিতে ভেজাতে।

তন্দ্রার অলীক আকাশগঙ্গার সিঁড়ি
হঠাৎ ছিটকে গেলো -----
বাস্তবের কঠোর ধূলিতে;
পরখ করতে পারিনি সৃষ্টিসুধা
কারণঃ
সে ছিল আমার প্রিয়া প্রতিভা।

––––––––―

ভালোবাসার বৈধব্য

ভালোবাসার বৈধব্য হয় না ;
তোমার ছন্দপতন আমার জীবনে ......
ভালোবাসাকে করেছে আরও স্বচ্ছ
আরও পরিপূর্ণ।

সশব্দে আগমন -------- নিঃশব্দে নির্গমন তোমার ;
কিন্তু, আমার জীবনকে করেনি কোনো পরিবর্তন .......
ভালোবাসার কোনো শুন্যতা নেই
হয়েছি সম্পূর্ন।

তোমার ছন্দপতনে অন্যজন ;
ভালোবাসার ফুলে অভিনন্দিত হয়েছি বারবার,
আমিও স্বাগত জানিয়েছি ; কারণ .......
ভালোবাসার বৈধব্যকে স্বীকার করিনি আমি।।

--- ৹৹৹ ---

বেশ্যা

জীবনের সুপ্রাভাতে আমার
সারস্বত্যের সমাধী দিলে তুমি :
ভালোবেসে কাছে টানা নয় --
  স্বায়ত্বশাসনের ধ্বজায় বলি ;

কৈশোরের কিশলয় পুস্তক স্পর্শ করি
যৌবনের স্বপ্ন বৈভবের দীপশিখা জ্বালে :
স্বচ্ছলতার, উচ্ছলতা ক্ষুধায় ম্রিয়মান আজ --
বয়:সন্ধির শিশু-শশী প্রতিবিম্বের স্মৃতি ভরে ।

যুগান্তরের ঘূর্ণাবর্তে ---- !
নিষ্ফলে সফল এক ফোঁটা জল 
প্রিজমছটায় অঙ্কুর - ধূসর দ্যূতির জাহ্নবী :
অতিবৃদ্ধ ডাবওয়ালার প্রচ্ছন্ন মুখ ক্রীড়নক ---
       কতিপয়ের হাস্যধ্ব্নিতে !

তাই কুয়াশার শিশিরে ভিজেছে হৃদয়
ঢিল ফেলা দূরত্বে ভালোবাসা
থেমে গেছে -- রুদ্ধ কন্ঠ -- রক্তে ---
অমাবস্যার কালি খাঁড়াই ;

গৌরী জীবন কালিমা লিপ্ত ফুটপাথে
কেটেছে বিষাক্ত সাপের দল :
মুমূর্ষু নীলদেহ যৌবন আজ ---
সমাজ দিয়েছে নাম --- বেশ্যা।
----- ০০০ ----- 

ভালোবাসার মানে

ভালোবাসা মানে
উদাসী বাঁকে হারিয়ে যাওয়া
এক ঝাঁক বালিহাঁস।
ভালোবাসা মনে
মুক্ত আকাশে ডানা মেলা
পেঁজা পেঁজা এক খণ্ড সাদা মেঘ।
ভালোবাসা মানে
গভীর সমুদ্রের -- তট থেকে
দেখতে না পাওয়া ওই দিগন্ত রেখা।
ভালোবাসা মানে
অমাবস্যার দুর্যোগপূর্ণ রাতে
হঠাৎ দেখতে পাওয়া এক পথিক।
ভালোবাসা মানে
মরুভূমিতে পথ হারা এক তৃষ্ণার্ত পথিকের
হঠাৎ ঝরে পড়া এক পশলা বৃষ্টি।
ভালোবাসা মানে
দুর্যোগ ভরা রাতে --
তুমি ছিলে না সাথে।
ভালোবাসা মানে
বৃষ্টি ভেজা রাতে --- তুমি দূর হতে
একাকী হৃদয় ছুঁয়ে --- এঁকে দিলে ভালোবাসায়।।

অস্তমিত হুরী

স্তোকনম্রা নগ্ন বুকে
অস্তমিত জ্বলন্ত সূর্য ;
পশ্চিমাকাশে হেলে পড়েছে ; ---
কিন্তু তার অগ্নিপিন্ড এখনো
হাতছানি দেয় লালিমায় ।

মনেহয়
     কোন একসময় এর তেজ
     বহু সবুজত্বকে নষ্ট করেছে ;
কিন্তু এখন ----- ?
     পড়ন্ত আকাশের মধ্য গগনে এসে
     ঠেকেছে ।

আজ
বরারোহা ভারে হুরী লজ্জাবনতা
     অব্যক্ত যন্ত্রণায় ;
স্তোকনম্রা নগ্ন বুকে -----
পুঞ্জি ভূত ব্যাথার রাশি
     অগ্নি হয়ে ঝরে ।

ছুটি

তুমি এসেছিলে .......... 
কবে ?

কেন ! সেই বৈশাখের তপ্ত দুপুরে
দখিনা জানালা বেয়ে
শিরশিরে ঘুম ঘুম হাওয়া জড়ানো
রঙীন পাতলা শাড়ীতে।
তোমার গোল - পীনোন্নত মুখ ভালোবাসার আহব্বায়ক।
যেখানে  অম্বরহীন একজোড়া ঠোট , শ্রোণীদেশ ---
মিষ্টি নদীর মন্দ ধ্বনি আমি শুনেছিলাম।

তুমি বলেছিলে -----  " কালই শেষ "
" ছুটি শেষ ! "
" থাকো না আরো ----- একদিন ----- ", বিফল অনুরোধ।

বাহু বন্ধন ছিন্ন করে সোজা হলে।
ভেবেছিলাম এমনি করে চিরকাল
তপ্ত বৈশাখী দুপুরে দু'জনে মিলে
আম কুড়াবো -----  মাখাবো ----- সুখে খাবো ,
কিন্তু " ছুটি !! "

চলন্তিকা ট্রেনে চেপে তুমি
অনন্ত হাওয়ায় মিশে গেলে।

জানালার কবাট বন্ধ
অসীম আকাশ সসীমতায় নিঃশেষ ।।

----- ০০০ -----

বিশ্বাস

যন্ত্রণাকাতর মানুষটি ,
পা টলতে টলতে হেঁটে এলো
আমার কাছে ;
বলতে পারেন 'সুখ আর শান্তি' 
কোথায় কিনতে পাই (?)
আমার বিশ্বাসকে করতে হবে সৎকার ।

আমি ভাগালাম পাগল আর মাতাল ভেবে ;
পরক্ষণে শুনতে পেলাম তার
এক করুন চিৎকার ।

মনটায় বেশ দাগ কেটে গেলো
সময় দৌড় দিল ——
যেনো বুনো ঘোড়া চাবুক খেয়েছে
বিশ্বাস ভঙ্গের !
শবযাত্রার খৈয়ের মতো
টাকার বান্ডিলটা ছড়িয়ে দিল সে রাস্তায় ।

অতীতের ভার ঘুচে গেছে
দুরন্ত সময়ের স্রোতে; 'সুখ আর শান্তি'কে 
সে কিনতে চেয়েছিল অতি সস্তায় ।

স্মৃতি

যাকে আমি মাথায় তুলে রাখি 

আদর করি আর খোরপোষ দিই 

আজ সেই বিস্বস্থ বন্ধুটাও 

বিদ্রোহের নিশানা রাখলো আমার পায়ের 

পেশীতে কাঁমড়ে  আর আঁচড়ে। 


যাকে আমি বেশী ভালোবাসলাম জীবনে 

সেও দেখাবে আর হাটবে মোটা অঙ্ক ;

পথে বসাবে আমাকে সহ বাকীদের 

করবে না কোনো আপোষ 

দিতেই হবে বড় খোরপোষ। 


যাকে মাথায় তুলে রেখে 

ভরিয়েছি অনেক আদর-এ 

বিশ্বাসের দূরত্ব বেড়েছে আমাদের 

সত্যকে নিচ্ছি আজ আমি সাদরে। 


ক্রমশ নাগালের বাইরে সরে গিয়েছো তুমি 

ছিনিয়ে নিয়েছো আমার সবকিছু 

নাম - ধাম ;

বেঁচে থাকি শুধু নিয়ে স্মৃতিকে 

আর তোমার পুরানো অ্যালবাম। 

তোমায় বোঝা ভার

তোমায় বোঝা ভার !
কত কি লুকাও তুমি !!
অজানা বুকে কত কষ্ট চেপে
সহসা এসে দাড়াও সহাস্যে দুয়ারে ;
আমি এসেছি কি আসি নাই -- তবু
তুমি এসেছ -- একটু হাসি ঠোঁটের কোণে নিয়ে ।

তোমায় বোঝা ভার !
কত কি লুকাও তুমি !!
কাঁচা স্বপ্নের ঘুম ভেংগে দিয়ে
দাঁতের ফাঁকে আনন্দের স্মৃতি চিবোও তুমি ;
খাঁটি সোনার জীবনে সাদামাঠা গল্প ফেঁদে
ভাড়ের চায়ে শেষ চুমুকে দাও সিগারেটের টান ।

তোমায় বোঝা ভার !
কত কি লুকাও তুমি !!
খুঁজে ফেরো সত্যের মন্দিরে বারোমাস
শ্রান্ত দিনের ক্লান্তির শান্তি সুখ ;
বাঁকা ঠোঁটের কোণে ধারালো হাঁসি
ছয় ঋতুতেই আমি পাপ করতে রাজি ।

চার দেওয়ালে , সুখের গান গেয়ে বিছানায়
ভেংগে ফেলি আদরের গোলাপ কামিনী গন্ধ ।।

পুঞ্জীভূত সত্য

বন্ধু ! !
আমি দেখেছি
পুঞ্জীভূত সত্য ----- মিথ্যার ঝলকানিতে
ভালোবাসায় আঘাত হানে ;
ক্রমাগত চিতনাল জ্বলে যৌবনের।

বন্ধু ! !
আমি দেখেছি
বাহাদুর বিশ্বকর্মারা ----- জ্ঞান ঝুলিতে সিঁধ কেটে
কেজোদের দলে নাম লেখায় ;
নবযৌবন কুলিদের স্বপ্নে ভরা লণ্ঠন।

বন্ধু ! !
আমি দেখেছি
ইন্দ্রগণ নারীসঙ্গলাভে কুমারটুলির কাতারে
কাদার পিন্ড হাতে অপেক্ষমান ;
চেলিবেষ্টিত কন্যার কুষ্টিতে অশ্রুজল ।

বন্ধু ! !
তুমি দেখেছো কি -----
শত সন্ন্যাসীর আক্কেল দাঁত ;
মিলনান্তে কুসুমিত ----
তব মন - বেনী পৌরুষ নদীতে বিসর্জিত ।।

--- ৹৹৹ ---

বয়:সন্ধিকালীন মুখ

বয়:সন্ধিকালীন মুখ ,

বড় আশ্চর্য আনন্দের বিশ্ববৈভব

খুঁজে ফেরে ,  বিকালের রাস্তার চৌমাথায় ;
প্রেমিক-প্রেমিকার কাতর চোখে
রাত্রির ভাব - প্রতিমাকে  উৎসর্গ করে ।

জাদুকরী বৃক্ষকান্ডে জীবন মুক্তি ---


তৃষ্ণা আর অনুশোচনায় জড়ানো নবীন রাত্রি

হৃদয়ে-ওষ্ঠে উষ্ণতার অনুভব ;
চশমার ফাঁক দিয়ে সব সিদ্ধির
নগ্ন অধিশ্বরের নির্মলতার নোংরা চিৎকার ।

কৃতঘ্ন আলো জ্বলে তার বিষাক্ত দাতের উপর

শয্যায় আত্কে উঠে নিদ্রার খোলস ভাঙ্গে ।

অনন্ত স্বপ্নের আমন্ত্রণ -----


ক্ষুধা, মিথ্যা ও দারিদ্রকে সম্পদ করে

জলমগ্ন শবের মতো ভেসে যায় ।

সূদুর নীহারিকার মধ্যে তবুও: একদিন

সেই রহস্যময় রাস্তার চৌমাথায়
মাতৃত্বের ভিজে পোশাকে, গর্ভগৃহে ফেলে
কৃতঘ্ন স্নেহের বিষাক্ত নিশ্বাস ।

~~~~ ০০০০ ~~~~~

অভিলাষী হৃদয়

তোমার  অভিলাষী হৃদয় !!
          আমার শুষ্ক ভালবাসার মরুভূমিতে
          তোমার নরম হাতের স্পর্শে বান ডেকেছে ;
          কামনার নিরন্তর স্পর্শমনিতে ফুল ফোটে  ;
          বন- দোয়েলের পাতা-পুস্পে মাখা মাখির কাহিনী।
         
চতুর্দিকে ফাল্গুনের হাওয়া -------
                        আলগোছে স্বর্গ গড়ে দেয় তোমার
                        দ্বিধাহীন তৃষিত ভালোবাসা ।

তোমার  অভিলাষী হৃদয় !!
          দুরস্থ স্পর্শমণির মতো আমার জেগে ওঠে
          অতিন্দ্রীয় সুখ-শয্যায় তোমার রতি প্লাবন
          অসংকোচে হয়ে ওঠে হাঘরে ঊর্বশী ;
          যৌবন পূর্ণতা পায় প্রজাপতির কল্যানে ।


          ~~~~~ ooo ~~~~~

বিদ্যুৎ

অগ্নির বিদ্যুৎ ঝলকে
ঝল্'কে উঠলো তার মুখ ;
এক সোনালী রোদ্দুরের হাসি ছড়ানো
সুন্দর অবলীলায় গাড় থেকে গাড়তর ।

অন্ধকারের পথে নেমে এলো
জোনাকীর ঝিঁ ঝিঁ রবে ;
একবুক সাহস আর অভিমান ;
আরক্ত রক্তিম মুখে পূর্বরাগের
                   বিদ্যুৎ স্ফুরণ ।

জলন্ত সূর্যের দগ্ধ অগ্নিপিন্ডের মতো
দাউ দাউ করে জ্বলছে
এই বুক , এই হৃদয় .... ।

~~~ ০০০ ~~~
 

ভালোবাসার অনুভূতি

বসন্তের নব-পল্লবের কচি আমেজ
ভালোবাসার নগ্ন শরীর
উপভোগ করেছি ---
অজন্তা চিত্র নয়, ইংরেজি নীল ছবি নয়;
আমার মানসীর সর্বাঙ্গে
হাত বুলেয়েছি যৌবন শিখরে ;
ভালোবাসার মাতৃ-সুধা
নারী রূপে ধরা দেয় ;
কামণার আর্তনাদ আত্মনাদ হয়ে পড়ে
সুখানুভূতির বালুচরে ||

~~~~~ 000 ~~~~

আদর

 আমার আদর ছুঁয়ে যায় অমৃতার বুক 

আর ভালোবাসা ছুঁয়ে যায় মাটির গন্ধ 

প্রতিমার চক্ষু দান হয় 

ওর নগ্ন নাভির পাদদেশে 

যেখানে বৃষ্টি হয় অনবরত। 


ওর শরীরে আমার অজস্র ভালোবাসার দান 

মুক্ত মন্দিরে বহনযোগ্য যন্ত্রনা 

অগুনতি ক্লান্ত  ক্রীতদাস ভালোবাসে 

তবুও নিঙড়ানো শরীরে 

ও ভালোবাসে আমাকে। 


সবুজ ঘাসের ভোর হয় সোনালী রোদ্দুরে 

শতাব্দীর একাকিত্ব আজ সৈকত পারে 

সীমারেখার বাঁধন হারা নুপুর ধ্বনি 

ক্লান্ত সূর্য ঘুমিয়ে পড়ে গোধূলির দেওয়ালে 

আর !!

তুফান নদীর ভালোবাসা স্নান সেরে ঘরে ফেরে 

রক্তিম আলোর বিচ্ছুরণ আর শুভ্র দ্যূতির সম্ভাষণে। 

নিঃশব্দ পদচারণা


মাধবীলতা !


কি করবো বলো ?
ফুল যে ঝরে যায় !
হায় !!
সে কেন শুকায় !!!


রৌদ্র তপ্ত ক'‌‌রে খেলা করে ,
অলিরা অবিচল বিক্ষিপ্তভাবে ঘুরে ফেরে ,
শান্ত দিঘীর জলে হাঁস গুলি ভেষে চলে ;
আর ছায়াঘেরা বনবিথীতে
তোমার নিঃশব্দ পদচারণা ——— !

দুটি ফুল হাওয়ায় মনের আনন্দে
দোদুল দোলায় দোল খায় ;
আর দোয়েল সপ্তস্বরে বাদ্য করে --
এই শ্যাম পল্লব দলে আচ্ছাদিত শ্যামলী


এই বনবিথী ;


সুন্দর মনোরম ও মনোহারী ।

মাধবীলতা !
সহসা চিৎকার করে  জিজ্ঞাসিল


——— ওটা কি হলো ?


সুন্দর শ্যামলী মধ্যে একটা সুবর্ণলতা
ছিড়ে পড়েছে ; শুকিয়ে ঝরে গেল একটা ফুল ।
জানিনা কোন বৃক্ষের পুষ্প ওটা !
শুধু জানি আমার জীবনে

এ ছিল

তোমার নিঃশব্দ পদচারণা ।।


কথা দিলাম

নিত্য আমি আমার মতো
যায় যদি যায় চলে.....
সত্য বলছি তোমার সাথে
বন্ধু ! দেখা একবার হবেই।

তুমি যদি যাও উড়ে
আমি যাবো সাথে
সত্য বলছি তোমার সাথে
বন্ধু ! দেখা আমার হবেই।

বন্ধু !
তুমি যদি থাকো সাত সমুদ্র পার
আমি কথা দিলুম,
যাবো সেথায় তোমার সাথে
ভাসবো এক তরনী 'পর।

শূন্যতা

এক বিশাল শূন্য প্রান্তরের সামনে দাঁড়িয়ে ;
(এই) শূন্যতার সাক্ষী জ্যোৎস্নার ম্লান হাসি 
                                     নক্ষত্রমালার সহচর
                                     দোসর বললেও ভুল হবে না ;

অচেনা অন্ধকারের বিশালতা --- ভালোবাসার কামধেনু
যেন নববধুর প্রথম বাসরঘরের সলজ্জ মুখ
কাঁচের ঘরে বন্দী নিস্তব্ধ গাঁয়ের চঞ্চল শহর --
আমার চঞ্চল হৃদয় অজানা বাসনায় আজ সপ্তনদীর সুরময় পদ্য 
স্বপ্নের বাসরঘরের আঙ্গিনায় নববধুর সঙ্গে প্রথম প্রনয় অপেক্ষায় ;
অন্যথায় - ভালোবাসা রয়ে যাবে শুধু এক স্বপ্নময় "অধরামাধুরী"।

দশতলায় ভালোবাসা !
                            আমি নিচে ফুটপাতে শুয়ে 
                            কুকুরের সঙ্গে ঘুম ভাগাভাগি করি ;
তবুও ! 
ভালোবাসা ভাগাভাগিতে রাজি নই ;
ভালোবাসার শূন্যতা যতই  প্রাংশুময় হোক ।  

----- ০০০ ----- 

~~ ভবিষ্যৎ পাথেয় ~~

ভবিষ্যৎ পাথেয়     বিদায় বিদায় বলে যেওনা ভুলে ---- এ বিদায়  তো সে বিদায় নয়। ক্ষণিকের তরে যেতেছ ছেড়ে পুরাতন পাঠশালা ! নতুন পাবে পুরাতন ভুলিবে...