বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬

শ্রাবণী

আমি চলেছি  পথের বাঁকে
হারিয়েছি তোমাকে শ্রাবণী !
শ্রাবস্তী নগরী পার হয়ে তুমি
           ত্রস্তা ধরণীর বুকে মিশেছ।

তুমি সুখী হয়েছ তো ?

ভালোবাসার মহার্ঘ্যভাতা পাইনি আমি
শুধু করের বোঝা চেপেছে।
শোধ দিতে না পেরে - হয়েছি দেউলিয়া ;
শুয়েছি ধুলার প্রাসাদে -
শুধু  তোমারই জন্যে - শ্রাবণী !

তুমি সুখী হয়েছ তো ?

আজ এই ক্রান্তিকালীন সময়ে
দেখে যেও একটি বার , অমৃতশয়ানে
আছি যে তোমারি পথ চেয়ে
 বৃথা  ফিরায়ো না -- শ্রাবণী !!

আমি  যে ভালোবাসার মহার্ঘ্যভাতা পেতে চায়।

--- ০০০ ---

প্রতিভা

প্রতিভা,
তোমারে কখনো তো আমি দেখিনি
তবুওঃ তোমার স্বপ্নালু নীলাভ আঁখি
সন্ধ্যার অন্ধকারে ভেসে ওঠে;
পল্লবিত করে শীতে ঝরে পড়া পাতা,----
বর্ষার তেজে সচেতন হয়ে ওঠে,
বসন্তের দক্ষিণা হওয়ায় সবই ----
গুলিয়ে যাচ্ছে, শুধুই ------- ।

প্রতিভার জ্বালায় পৃথিবীর কোণে
ডাক পড়েছে,
ধ্রুবতারা জ্বলে উঠেছে,
গ্রহান্তরে খুঁজে বেড়ায় -----
সেই কোমল কোরক অব্যক্ত অবয়ব;
লুকানো গভীর মর্মর ব্যাথা -----
নিশ্চল হয়ে দেখি।

প্রতিভা,
তোমার মেঘের মতো এলোমেলো চুলগুলি
সৌরভের মাদকতা --- সর্বশরীরে ;
প্রতিভা! সত্যি চুরি হয়ে গেছে
শরীরের রিক্ত জীবনের মৃত্যু মেদ;
ঝলমলে বর্ণময় কান্তি;
উজ্জ্বল হৃদয়।

প্রতিভা, নির্জন প্রকোষ্ঠে ফুটিয়েছে
তার অ'মৃতহীন উঠতি শরীর
উষ্ণ আলিঙ্গনের তৃপ্তিতে ভেজাতে।

তন্দ্রার অলীক আকাশগঙ্গার সিঁড়ি
হঠাৎ ছিটকে গেলো -----
বাস্তবের কঠোর ধূলিতে;
পরখ করতে পারিনি সৃষ্টিসুধা
কারণঃ
সে ছিল আমার প্রিয়া প্রতিভা।

––––––––―

ভালোবাসার বৈধব্য

ভালোবাসার বৈধব্য হয় না ;
তোমার ছন্দপতন আমার জীবনে ......
ভালোবাসাকে করেছে আরও স্বচ্ছ
আরও পরিপূর্ণ।

সশব্দে আগমন -------- নিঃশব্দে নির্গমন তোমার ;
কিন্তু, আমার জীবনকে করেনি কোনো পরিবর্তন .......
ভালোবাসার কোনো শুন্যতা নেই
হয়েছি সম্পূর্ন।

তোমার ছন্দপতনে অন্যজন ;
ভালোবাসার ফুলে অভিনন্দিত হয়েছি বারবার,
আমিও স্বাগত জানিয়েছি ; কারণ .......
ভালোবাসার বৈধব্যকে স্বীকার করিনি আমি।।

--- ৹৹৹ ---

বেশ্যা

জীবনের সুপ্রাভাতে আমার
সারস্বত্যের সমাধী দিলে তুমি :
ভালোবেসে কাছে টানা নয় --
  স্বায়ত্বশাসনের ধ্বজায় বলি ;

কৈশোরের কিশলয় পুস্তক স্পর্শ করি
যৌবনের স্বপ্ন বৈভবের দীপশিখা জ্বালে :
স্বচ্ছলতার, উচ্ছলতা ক্ষুধায় ম্রিয়মান আজ --
বয়:সন্ধির শিশু-শশী প্রতিবিম্বের স্মৃতি ভরে ।

যুগান্তরের ঘূর্ণাবর্তে ---- !
নিষ্ফলে সফল এক ফোঁটা জল 
প্রিজমছটায় অঙ্কুর - ধূসর দ্যূতির জাহ্নবী :
অতিবৃদ্ধ ডাবওয়ালার প্রচ্ছন্ন মুখ ক্রীড়নক ---
       কতিপয়ের হাস্যধ্ব্নিতে !

তাই কুয়াশার শিশিরে ভিজেছে হৃদয়
ঢিল ফেলা দূরত্বে ভালোবাসা
থেমে গেছে -- রুদ্ধ কন্ঠ -- রক্তে ---
অমাবস্যার কালি খাঁড়াই ;

গৌরী জীবন কালিমা লিপ্ত ফুটপাথে
কেটেছে বিষাক্ত সাপের দল :
মুমূর্ষু নীলদেহ যৌবন আজ ---
সমাজ দিয়েছে নাম --- বেশ্যা।
----- ০০০ ----- 

ভালোবাসার মানে

ভালোবাসা মানে
উদাসী বাঁকে হারিয়ে যাওয়া
এক ঝাঁক বালিহাঁস।
ভালোবাসা মনে
মুক্ত আকাশে ডানা মেলা
পেঁজা পেঁজা এক খণ্ড সাদা মেঘ।
ভালোবাসা মানে
গভীর সমুদ্রের -- তট থেকে
দেখতে না পাওয়া ওই দিগন্ত রেখা।
ভালোবাসা মানে
অমাবস্যার দুর্যোগপূর্ণ রাতে
হঠাৎ দেখতে পাওয়া এক পথিক।
ভালোবাসা মানে
মরুভূমিতে পথ হারা এক তৃষ্ণার্ত পথিকের
হঠাৎ ঝরে পড়া এক পশলা বৃষ্টি।
ভালোবাসা মানে
দুর্যোগ ভরা রাতে --
তুমি ছিলে না সাথে।
ভালোবাসা মানে
বৃষ্টি ভেজা রাতে --- তুমি দূর হতে
একাকী হৃদয় ছুঁয়ে --- এঁকে দিলে ভালোবাসায়।।

অস্তমিত হুরী

স্তোকনম্রা নগ্ন বুকে
অস্তমিত জ্বলন্ত সূর্য ;
পশ্চিমাকাশে হেলে পড়েছে ; ---
কিন্তু তার অগ্নিপিন্ড এখনো
হাতছানি দেয় লালিমায় ।

মনেহয়
     কোন একসময় এর তেজ
     বহু সবুজত্বকে নষ্ট করেছে ;
কিন্তু এখন ----- ?
     পড়ন্ত আকাশের মধ্য গগনে এসে
     ঠেকেছে ।

আজ
বরারোহা ভারে হুরী লজ্জাবনতা
     অব্যক্ত যন্ত্রণায় ;
স্তোকনম্রা নগ্ন বুকে -----
পুঞ্জি ভূত ব্যাথার রাশি
     অগ্নি হয়ে ঝরে ।

ছুটি

তুমি এসেছিলে .......... 
কবে ?

কেন ! সেই বৈশাখের তপ্ত দুপুরে
দখিনা জানালা বেয়ে
শিরশিরে ঘুম ঘুম হাওয়া জড়ানো
রঙীন পাতলা শাড়ীতে।
তোমার গোল - পীনোন্নত মুখ ভালোবাসার আহব্বায়ক।
যেখানে  অম্বরহীন একজোড়া ঠোট , শ্রোণীদেশ ---
মিষ্টি নদীর মন্দ ধ্বনি আমি শুনেছিলাম।

তুমি বলেছিলে -----  " কালই শেষ "
" ছুটি শেষ ! "
" থাকো না আরো ----- একদিন ----- ", বিফল অনুরোধ।

বাহু বন্ধন ছিন্ন করে সোজা হলে।
ভেবেছিলাম এমনি করে চিরকাল
তপ্ত বৈশাখী দুপুরে দু'জনে মিলে
আম কুড়াবো -----  মাখাবো ----- সুখে খাবো ,
কিন্তু " ছুটি !! "

চলন্তিকা ট্রেনে চেপে তুমি
অনন্ত হাওয়ায় মিশে গেলে।

জানালার কবাট বন্ধ
অসীম আকাশ সসীমতায় নিঃশেষ ।।

----- ০০০ -----

বিশ্বাস

যন্ত্রণাকাতর মানুষটি ,
পা টলতে টলতে হেঁটে এলো
আমার কাছে ;
বলতে পারেন 'সুখ আর শান্তি' 
কোথায় কিনতে পাই (?)
আমার বিশ্বাসকে করতে হবে সৎকার ।

আমি ভাগালাম পাগল আর মাতাল ভেবে ;
পরক্ষণে শুনতে পেলাম তার
এক করুন চিৎকার ।

মনটায় বেশ দাগ কেটে গেলো
সময় দৌড় দিল ——
যেনো বুনো ঘোড়া চাবুক খেয়েছে
বিশ্বাস ভঙ্গের !
শবযাত্রার খৈয়ের মতো
টাকার বান্ডিলটা ছড়িয়ে দিল সে রাস্তায় ।

অতীতের ভার ঘুচে গেছে
দুরন্ত সময়ের স্রোতে; 'সুখ আর শান্তি'কে 
সে কিনতে চেয়েছিল অতি সস্তায় ।

স্মৃতি

যাকে আমি মাথায় তুলে রাখি 

আদর করি আর খোরপোষ দিই 

আজ সেই বিস্বস্থ বন্ধুটাও 

বিদ্রোহের নিশানা রাখলো আমার পায়ের 

পেশীতে কাঁমড়ে  আর আঁচড়ে। 


যাকে আমি বেশী ভালোবাসলাম জীবনে 

সেও দেখাবে আর হাটবে মোটা অঙ্ক ;

পথে বসাবে আমাকে সহ বাকীদের 

করবে না কোনো আপোষ 

দিতেই হবে বড় খোরপোষ। 


যাকে মাথায় তুলে রেখে 

ভরিয়েছি অনেক আদর-এ 

বিশ্বাসের দূরত্ব বেড়েছে আমাদের 

সত্যকে নিচ্ছি আজ আমি সাদরে। 


ক্রমশ নাগালের বাইরে সরে গিয়েছো তুমি 

ছিনিয়ে নিয়েছো আমার সবকিছু 

নাম - ধাম ;

বেঁচে থাকি শুধু নিয়ে স্মৃতিকে 

আর তোমার পুরানো অ্যালবাম। 

তোমায় বোঝা ভার

তোমায় বোঝা ভার !
কত কি লুকাও তুমি !!
অজানা বুকে কত কষ্ট চেপে
সহসা এসে দাড়াও সহাস্যে দুয়ারে ;
আমি এসেছি কি আসি নাই -- তবু
তুমি এসেছ -- একটু হাসি ঠোঁটের কোণে নিয়ে ।

তোমায় বোঝা ভার !
কত কি লুকাও তুমি !!
কাঁচা স্বপ্নের ঘুম ভেংগে দিয়ে
দাঁতের ফাঁকে আনন্দের স্মৃতি চিবোও তুমি ;
খাঁটি সোনার জীবনে সাদামাঠা গল্প ফেঁদে
ভাড়ের চায়ে শেষ চুমুকে দাও সিগারেটের টান ।

তোমায় বোঝা ভার !
কত কি লুকাও তুমি !!
খুঁজে ফেরো সত্যের মন্দিরে বারোমাস
শ্রান্ত দিনের ক্লান্তির শান্তি সুখ ;
বাঁকা ঠোঁটের কোণে ধারালো হাঁসি
ছয় ঋতুতেই আমি পাপ করতে রাজি ।

চার দেওয়ালে , সুখের গান গেয়ে বিছানায়
ভেংগে ফেলি আদরের গোলাপ কামিনী গন্ধ ।।

পুঞ্জীভূত সত্য

বন্ধু ! !
আমি দেখেছি
পুঞ্জীভূত সত্য ----- মিথ্যার ঝলকানিতে
ভালোবাসায় আঘাত হানে ;
ক্রমাগত চিতনাল জ্বলে যৌবনের।

বন্ধু ! !
আমি দেখেছি
বাহাদুর বিশ্বকর্মারা ----- জ্ঞান ঝুলিতে সিঁধ কেটে
কেজোদের দলে নাম লেখায় ;
নবযৌবন কুলিদের স্বপ্নে ভরা লণ্ঠন।

বন্ধু ! !
আমি দেখেছি
ইন্দ্রগণ নারীসঙ্গলাভে কুমারটুলির কাতারে
কাদার পিন্ড হাতে অপেক্ষমান ;
চেলিবেষ্টিত কন্যার কুষ্টিতে অশ্রুজল ।

বন্ধু ! !
তুমি দেখেছো কি -----
শত সন্ন্যাসীর আক্কেল দাঁত ;
মিলনান্তে কুসুমিত ----
তব মন - বেনী পৌরুষ নদীতে বিসর্জিত ।।

--- ৹৹৹ ---

বয়:সন্ধিকালীন মুখ

বয়:সন্ধিকালীন মুখ ,

বড় আশ্চর্য আনন্দের বিশ্ববৈভব

খুঁজে ফেরে ,  বিকালের রাস্তার চৌমাথায় ;
প্রেমিক-প্রেমিকার কাতর চোখে
রাত্রির ভাব - প্রতিমাকে  উৎসর্গ করে ।

জাদুকরী বৃক্ষকান্ডে জীবন মুক্তি ---


তৃষ্ণা আর অনুশোচনায় জড়ানো নবীন রাত্রি

হৃদয়ে-ওষ্ঠে উষ্ণতার অনুভব ;
চশমার ফাঁক দিয়ে সব সিদ্ধির
নগ্ন অধিশ্বরের নির্মলতার নোংরা চিৎকার ।

কৃতঘ্ন আলো জ্বলে তার বিষাক্ত দাতের উপর

শয্যায় আত্কে উঠে নিদ্রার খোলস ভাঙ্গে ।

অনন্ত স্বপ্নের আমন্ত্রণ -----


ক্ষুধা, মিথ্যা ও দারিদ্রকে সম্পদ করে

জলমগ্ন শবের মতো ভেসে যায় ।

সূদুর নীহারিকার মধ্যে তবুও: একদিন

সেই রহস্যময় রাস্তার চৌমাথায়
মাতৃত্বের ভিজে পোশাকে, গর্ভগৃহে ফেলে
কৃতঘ্ন স্নেহের বিষাক্ত নিশ্বাস ।

~~~~ ০০০০ ~~~~~

অভিলাষী হৃদয়

তোমার  অভিলাষী হৃদয় !!
          আমার শুষ্ক ভালবাসার মরুভূমিতে
          তোমার নরম হাতের স্পর্শে বান ডেকেছে ;
          কামনার নিরন্তর স্পর্শমনিতে ফুল ফোটে  ;
          বন- দোয়েলের পাতা-পুস্পে মাখা মাখির কাহিনী।
         
চতুর্দিকে ফাল্গুনের হাওয়া -------
                        আলগোছে স্বর্গ গড়ে দেয় তোমার
                        দ্বিধাহীন তৃষিত ভালোবাসা ।

তোমার  অভিলাষী হৃদয় !!
          দুরস্থ স্পর্শমণির মতো আমার জেগে ওঠে
          অতিন্দ্রীয় সুখ-শয্যায় তোমার রতি প্লাবন
          অসংকোচে হয়ে ওঠে হাঘরে ঊর্বশী ;
          যৌবন পূর্ণতা পায় প্রজাপতির কল্যানে ।


          ~~~~~ ooo ~~~~~

বিদ্যুৎ

অগ্নির বিদ্যুৎ ঝলকে
ঝল্'কে উঠলো তার মুখ ;
এক সোনালী রোদ্দুরের হাসি ছড়ানো
সুন্দর অবলীলায় গাড় থেকে গাড়তর ।

অন্ধকারের পথে নেমে এলো
জোনাকীর ঝিঁ ঝিঁ রবে ;
একবুক সাহস আর অভিমান ;
আরক্ত রক্তিম মুখে পূর্বরাগের
                   বিদ্যুৎ স্ফুরণ ।

জলন্ত সূর্যের দগ্ধ অগ্নিপিন্ডের মতো
দাউ দাউ করে জ্বলছে
এই বুক , এই হৃদয় .... ।

~~~ ০০০ ~~~
 

ভালোবাসার অনুভূতি

বসন্তের নব-পল্লবের কচি আমেজ
ভালোবাসার নগ্ন শরীর
উপভোগ করেছি ---
অজন্তা চিত্র নয়, ইংরেজি নীল ছবি নয়;
আমার মানসীর সর্বাঙ্গে
হাত বুলেয়েছি যৌবন শিখরে ;
ভালোবাসার মাতৃ-সুধা
নারী রূপে ধরা দেয় ;
কামণার আর্তনাদ আত্মনাদ হয়ে পড়ে
সুখানুভূতির বালুচরে ||

~~~~~ 000 ~~~~

আদর

 আমার আদর ছুঁয়ে যায় অমৃতার বুক 

আর ভালোবাসা ছুঁয়ে যায় মাটির গন্ধ 

প্রতিমার চক্ষু দান হয় 

ওর নগ্ন নাভির পাদদেশে 

যেখানে বৃষ্টি হয় অনবরত। 


ওর শরীরে আমার অজস্র ভালোবাসার দান 

মুক্ত মন্দিরে বহনযোগ্য যন্ত্রনা 

অগুনতি ক্লান্ত  ক্রীতদাস ভালোবাসে 

তবুও নিঙড়ানো শরীরে 

ও ভালোবাসে আমাকে। 


সবুজ ঘাসের ভোর হয় সোনালী রোদ্দুরে 

শতাব্দীর একাকিত্ব আজ সৈকত পারে 

সীমারেখার বাঁধন হারা নুপুর ধ্বনি 

ক্লান্ত সূর্য ঘুমিয়ে পড়ে গোধূলির দেওয়ালে 

আর !!

তুফান নদীর ভালোবাসা স্নান সেরে ঘরে ফেরে 

রক্তিম আলোর বিচ্ছুরণ আর শুভ্র দ্যূতির সম্ভাষণে। 

নিঃশব্দ পদচারণা


মাধবীলতা !


কি করবো বলো ?
ফুল যে ঝরে যায় !
হায় !!
সে কেন শুকায় !!!


রৌদ্র তপ্ত ক'‌‌রে খেলা করে ,
অলিরা অবিচল বিক্ষিপ্তভাবে ঘুরে ফেরে ,
শান্ত দিঘীর জলে হাঁস গুলি ভেষে চলে ;
আর ছায়াঘেরা বনবিথীতে
তোমার নিঃশব্দ পদচারণা ——— !

দুটি ফুল হাওয়ায় মনের আনন্দে
দোদুল দোলায় দোল খায় ;
আর দোয়েল সপ্তস্বরে বাদ্য করে --
এই শ্যাম পল্লব দলে আচ্ছাদিত শ্যামলী


এই বনবিথী ;


সুন্দর মনোরম ও মনোহারী ।

মাধবীলতা !
সহসা চিৎকার করে  জিজ্ঞাসিল


——— ওটা কি হলো ?


সুন্দর শ্যামলী মধ্যে একটা সুবর্ণলতা
ছিড়ে পড়েছে ; শুকিয়ে ঝরে গেল একটা ফুল ।
জানিনা কোন বৃক্ষের পুষ্প ওটা !
শুধু জানি আমার জীবনে

এ ছিল

তোমার নিঃশব্দ পদচারণা ।।


কথা দিলাম

নিত্য আমি আমার মতো
যায় যদি যায় চলে.....
সত্য বলছি তোমার সাথে
বন্ধু ! দেখা একবার হবেই।

তুমি যদি যাও উড়ে
আমি যাবো সাথে
সত্য বলছি তোমার সাথে
বন্ধু ! দেখা আমার হবেই।

বন্ধু !
তুমি যদি থাকো সাত সমুদ্র পার
আমি কথা দিলুম,
যাবো সেথায় তোমার সাথে
ভাসবো এক তরনী 'পর।

শূন্যতা

এক বিশাল শূন্য প্রান্তরের সামনে দাঁড়িয়ে ;
(এই) শূন্যতার সাক্ষী জ্যোৎস্নার ম্লান হাসি 
                                     নক্ষত্রমালার সহচর
                                     দোসর বললেও ভুল হবে না ;

অচেনা অন্ধকারের বিশালতা --- ভালোবাসার কামধেনু
যেন নববধুর প্রথম বাসরঘরের সলজ্জ মুখ
কাঁচের ঘরে বন্দী নিস্তব্ধ গাঁয়ের চঞ্চল শহর --
আমার চঞ্চল হৃদয় অজানা বাসনায় আজ সপ্তনদীর সুরময় পদ্য 
স্বপ্নের বাসরঘরের আঙ্গিনায় নববধুর সঙ্গে প্রথম প্রনয় অপেক্ষায় ;
অন্যথায় - ভালোবাসা রয়ে যাবে শুধু এক স্বপ্নময় "অধরামাধুরী"।

দশতলায় ভালোবাসা !
                            আমি নিচে ফুটপাতে শুয়ে 
                            কুকুরের সঙ্গে ঘুম ভাগাভাগি করি ;
তবুও ! 
ভালোবাসা ভাগাভাগিতে রাজি নই ;
ভালোবাসার শূন্যতা যতই  প্রাংশুময় হোক ।  

----- ০০০ ----- 

এক টুকরো কয়লা

গঙ্গার বুকে ভেসে চলেছে
                   --- এক টুকরো কয়লা
                        নাম   -   কাঠ কয়লা ।

তার জন্ম ইতিহাস আমার জানা নেই ।

তুমি কি জান ?

উজ্জ্বল অগ্নির প্রজ্জ্বল কাষ্ট
           সপ্রপাতে বয়ে চলেছে
           গঙ্গা বক্ষে ;
           সুমুদ্র অভিমুখে !

অনন্ত সুমুদ্র ............ !!

--- ৹৹৹ ---

প্রতিকৃতি

মুখ থুবড়ে পড়ে আছে একটা বড় বটগাছ ,
পাতাঝরা পোড়ো গাছের ডালপালা
ছেঁড়া ক্ষত বিক্ষত শেকোড়ের কান্না
পেশীর মধ্যে মৃত্যু লুকিয়ে আছে , তবুওঃ
পৃথিবী শুধু ওগরাচ্ছে কালো ধোঁয়া ।
স্নাযুগুলি শিথিল হয়ে আসছে .....
মৃত্যুর কল্পনা ভাস্বর স্মৃতির প্রতিকৃতিতে
সত্যের বাকরুদ্ধতা মুক্তির অপেক্ষায় আজ অবরুদ্ধ ।।

বেতার সুরের মূর্ছনা তোলে সপ্তকির তালে
স্মৃতির প্রতিকৃতি আলো আধারিতে খেলা করে ।
আমরা স্বপ্ন দেখি মাথা-মুন্ডুহীন , অলীক
সপ্ত আসমানের মতো অদৃশ্য সব স্বপ্ন ।
দর্পনে নিজস্ব প্রতিকৃতি দেখে শিউরে উঠি ,
পোড়া মুখ - ক্ষত বিক্ষত হৃদয় - শান্ত বিবেক ।।

~~~~~ ০০০০০ ~~~~~

পরিণতি

মৃত্যুর ম্লান স্তুপে ;

     পুরু অথচ ঋজু মখমল সজ্জিত ---
     গুরুভার বাহিত পরিপূর্ণ মহিমময় ,
     রহস্যময় বনাঞ্চল ধ্বনিত হয় ।

যেহেতু : জুই ও কেয়ার সৌরভ তাকে চিনতে পারে,
              অর্ধনগ্ন স্তাপত্যরূপে মহাকীর্তি ।

তবুও : যৌবনের তাজা হাড়ের মধ্যে খেলা করে ,
              মৃত্যুর চিরন্তন অভ্যর্থনা ।

বিকীর্ণ হেমন্তের অলৌকিক হাসিমুখের শেষ পরিণতি ।।


~~~ ০০০ ~~~

বাসনার গুরুভার

বাসনার গুরুভারে শূন্য
     নীল  আকাশের ক্ষুব্দ প্রসারিত অনুভূতি
     প্রভাতের অরণ্য - শিশির ভেজা - বিহঙ্গ ওড়া
     বন্ধন খোলা বেণী নিংড়ে নিলো মুক্তির গোধূলী ।

অহংবোধের সত্ত্বা মহিমান্বিত
     কর্মিষ্ট জনতার নবীন সূর্যের মুখোশ
     জ্বল জ্বল করে মুছে গেলো - সহস্র নক্ষত্রের মধ্য হতে
     ধুমকেতুর মত ছুটে গেল বাসনার শূন্য গুরুভার ।

নগ্ন পদতলে বাসনার গুরুভার
     হাওয়ায় কেঁপে কেঁপে উঠছে মহাসেন ,
     নৃত্যরত লাস্যা সোনালী মেঘের মেয়ে
     অসীম বার্তাবাহী - এ ভুমাত্বের কুহেলিকা ।

প্রণয় আবেদন ছুয়ে যায় তার চিরন্তন  যৌবনসত্বায় ।।

~~~ ০০০ ~~~

স্বপ্ন ঋণ

রাত এগারোটা ঊনত্রিশ
তোমার শরীরের পারফিউম মাতিয়ে তোলে ,
আমায় ।
হাতের পাঁচটা আঙ্গুল পিপড়ের মতো
তোমার নগ্ন শরীরে চলে ;
পর্বত থেকে নেমে আসা ঝর্ণাধারার মতো ।

সুখের আবেশে স্বপ্ন দেখি আমি ,
জিহ্বা ছুয়ে যায় তোমার বুক ;
বুক থেকে নাভি হয়ে , আরও নীচে ....
কয়েক লক্ষ ক্রোমোজোম তীব্র আক্রোশে
ঝাপিয়ে পড়ে একটা ডিম পাবার আশায় ।

বারোটা বেজে গেছে আমার ।
এখন দুচোখে শুধু তোমারই স্বপ্ন ঋণ ;
ভোরের ঘুম থেকে ডেকোনা আমায় ,
আমি স্বপ্ন দেখিনি বহুদিন ।।

রাত্রির আবেশ

অন্ধকারের গভীরতা কানাকানি করেঃ
নিস্তব্ধ কঙ্কনার কঙ্কন ধ্বনি
কন্ঠের মাধুরিমায় একাত্ব;
বড় ভালো বোধ হয়।

বৈদ্যুতিক ল্যাম্পের আলোয় একাকী
ঘুমহীন ঢুলু ঢুলু চোখে
তন্দ্রার আবেশে -----
কঙ্কনার স্বপ্নে বিছানো বিছানায়;
হঠাৎ একরাশ সৌরভে
ঘরের অন্ধকার নেমে এলো; -----
সম্বিৎসারে অন্য আর একটা
রাত্রির আবেশ-----
খোলামেলা ভাবে জেগে ওঠে
কাত হয়ে জেগে শুয়ে থাকা
বিছানা-প্রেমিকের চোখে।

উঠে একটু গলাটা ভিজিয়ে নেয়,
আবার শুয়ে পড়ে; নড়ে আর উঠে
সারা রাত্র ; তবুওঃ  ;
একাকী উপাধান-ক্রীড়নক করে
পড়ে থাকে।
স্বপ্নের মাদকতা অস্পষ্ট হয়ে আসে
ঈস্পিত বাস্তবকে মেনে নিয়ে।

তারপর সে সুখ খুঁজে ফেরে-----
অসীমাকাশের মহাশূন্যের
অন্তহীন মৈথুনতার পথে;
কোন সে এক অজানা
মধুযামিনির ঘোরে।

––––––

মালিশ

তোমাকে সেদিন দেখলাম
                       একটা মিছিলের মধ্যমণি হয়ে
                       চলেছ সবার আগে ;
কত শত নারী-পুরুষ ছেলে-বুড়ো
                       তোমারই জয়গান করছে ........ ।

বনের বটবৃক্ষের সদর্প ঘোষনা ;
                       'সকল শিয়ালের একই রা' '
                                    হুক্কা হুয়া .................. ।
দিগন্তে রাঙা সূর্য নিভে যাচ্ছে
                        লালিমায় আঁকা ছবি তারই প্রমান ।

যন্ত্রযুগের যান্ত্রিকতায় পরিপূর্ণ সমাজ ,
                        সরীসৃপের মতো ঊরগ্ .........
দৈত্যের মতো নোংরা দাতের দংশন
বড় ক্ষতের দগ্-দগে ঘা' ;
                         সকলে মালিশে ব্যস্ত ।

প্রেম - ভালোবাসা - স্নেহ - মমতা অপসারিত ;
তবুও তুমি আমায় বললে একটি কথা -----
                         ' আমরা একে অপরের '
                                       সত্যি কি ?

আকাশের ধূমকেতুর যেন সহসা
                         মর্তে আবির্ভাব ঘটলো ;
দীর্ঘ ব্যবধানে যৌবন জোয়ারের পর ।।

~~~~~~ ০০০০ ~~~~~~~

অনুসূয়া

অনুসূয়া !!

গাঢ় মেহেদির লাল রং 
- তোমার মোহনাস্থিত অমৃত জলে ;
আমার স্রোতহীন শুষ্ক নদীতে
                      - অজ্ঞাত সোহাগের স্বপ্ন ওড়ায় ;
                         আজ্ সারারাত ।
যন্ত্রনার বাসনা স্নাত সুপ্ত অভিসার ;
ভেসে যায় প্রীত সমুদ্রের লোনাজলে ।

অনুসূয়া !!

তোমার ঠোঁটের অলীক হাসির অঞ্জলি ;
- যেন বাসন্তী প্রভাতের ত্যাক্ত বসন ;
আত্মহননের জলন্ত সিগরেট
                     - অন্তিম টানে ; তন্বী - বন্ধন ছিন্ন হয় 
                        শূন্য আঙ্গিনায় ।
কৈশোরে দেখা নিস্তরঙ্গ দৃশ্যের মতো
ফুটে ওঠে স্বর্গগঙ্গার ছায়াচিত্র ।

অনুসূয়া !!

তোমার সুমুদ্র জলের সফেন ফেনা 
আর অবিমিশ্র গন্ধ ; 
প্রণয় পাগল বাতাস
আর স্বপ্নবিভর দৃশ্যভুবন ;
সবই তোমার ভালোবাসা নামক ছবির
                      - শেষ অঙ্কের সওগাত  ।।

--- ৹৹৹ ----

অধিকার

আনন্দের বিষম জ্বালা সহ্য নয় ;
       তবুও বিশ্বাস হয় না
নগ্ন শরীরে উত্তর পুরুষের অধিকার ;

চোখের সামনেই ভয়ংকর অবিশ্বাস
       প্রেম ধূসর মায়াবী এক স্বপ্ন ।

নেপকিনে শরীরের ক্লান্ত ঘাম মুছে
 প্রভাত সূর্যের স্নিগ্ধ আভারাশী
 কুয়াশার রক্তিমতায় জড়াজড়ি করছে ;

           ---- এ যেন ------
সত্য পূজারীর সৌন্দর্য্য ঝলসানো
                  এক নিত্য ঘটনা ।।

~~~~~ ০০০০ ~~~~~~

অভিসারিনী

মিটি মিটি সন্ধ্যার আলোকে -----
আমি যখন দাঁড়িয়ে ছিলেম একা , ---
মধ্যবর্তী ঐ কালবাটে ; গা এলিয়ে ----
সন্ধ্যা সমাগতা , মিষ্টি মধুর দৃশ্য
                          অবলোকন হেতু ..........

দূর আকাশে তখন সবে
তারকারাজি ফুটে উঠেছে, -----
                   সেই নির্মল আকাশের বুক চিরে,
মনে হলো, --- কিছু বলবে আমাকে
                    তাই রয়েছি চুপচাপ দাঁড়িয়ে।

বলিল: "ও হে ! আজি তুমি একা ----
              তোমার প্রিয় সঙ্গীরা কোথায় (?)"

আমি উত্তর করেছিনু, ----
               ওগো সুন্দরের অভিসারিনী
                তোমারই বিধূমুখ দেখার আশে
                 রয়েছিনু যে দাঁড়িয়ে।

যাচ্ছ কোথায় অভিসারে ?
"চলেছি অভিসার হেতু ---
                  সুদাংশু পানে।"

ভাবছিনু, উত্তর হলো কোথা হতে !
ফিরিয়া দেখিনু, বলিছে এক তারকা
                    হাসিয়া আমারই পানে।

ফিরিছিনু যবে আমি ঋতানৃত জগতে
কর্ণিকাহীন আলোকাবলী বিছানো তনুমধ্য
তখনই জিজ্ঞাসিছে :--
                   "আজি এই উদাসী পথের বাঁকে
                     কি করিতেছ দাঁড়িয়ে (?)
                      ---- হে উদাসী !"

চমকিয়া আমি জিজ্ঞাসিনু তারে ----
                      "তুমি কে গো !!
আজি এই সন্ধ্যার মালতি-ভরা
গন্ধ-লুঠা তপস্যা ভঙ্গ করিলে মোরে।"

সেই ষোড়শী উত্তরিল মোরে ----
                        আমায় চিনিতেছ না !
আমি চলেছি অভিসারে, পূর্বরাগ 'পরে
                        তোমারই সনে।
আমি যে তোমারই অভিসারিনী -----
                         ----- অমৃতভাষিনী।
                         --- প্রিয়ংবদা।।

––––––

মহাশ্বেতা

ধুম্রকুট নয় ---
কুয়াশার বুকে ভর করে
আস্তে আস্তে নেমে আসে
             - আমার মানসী ;
তুমি তো সরস্বতী নও
             - তুমি আমার হৃদয়ের মহাশ্বেতা ।
নব কলেবর উন্মোচন করে
তুমি এসে দাঁড়ালে আমার সামনে
বন্ধু ! এতো স্বপ্ন নয়
                  – বাস্তবের আলিঙ্গন ;
রূঢ় পৃথিবীর দাহ্য মাটিতে আমার
                 প্রেয়সীর স্বপ্ন বিচরণ ।
ক্রমে ক্রমে এক বিশাল বিলুপ্ত পথ অতিক্রম করে
বাসর ঘরের আনন্দ যেন
                - জীবনানন্দের " লাশ কাটা ঘরে " ;
ভোলগা থেকে গঙ্গা হয়ে ফিরে আসে
                 কৈশোর সিঁড়ির গোঁড়ায় ।

~~~~~~~ 0000 ~~~~~~~~

স্বপ্ন

" আর সব মরে , স্বপ্ন মরে না - " (সু গ)
সুকান্ত , দীনেশ , রণেন' রা মরেনি 
 তাঁদের আদর্শ অমরত্বের আশ্বাস ;
আমাদের নিশ্বাস কথা বলে
সুভাষ , সুর্যসেনদের সোনালী স্বপ্ন ;
কঙ্কাল হতে লজ্জা নেই
        - যদি সেখানে লুকিয়ে থাকে গোপন স্বপ্ন ।

অমাবস্যার শ্ম্শানের - অদ্ভুত অন্ধকার
সাধক স্বপ্ন দেখে বাঙময়তার
টেবিলে মুখ গুজে কত ছেলে স্বপ্ন দেখে
ভবিষ্যতের স্বপ্ন - সে তো মিথ্যা নয় ।

সন্ধ্যার সূর্য স্বপ্ন দেখে - ঊষার অরুন হবে সে
কবি স্বপ্ন দেখে গোপনে - ভালোবাসার ;
ভালবাসা ছাড়া তার সৃষ্টি অধুরা ।

পাহাড় চূড়ায় উঠে তানজিন স্বপ্ন দেখে
একদিন সে উপরে উঠবে.... আরও .... !! আরও ..... !!!
মিশে যাবে আকাশের নীলিমায় ;

আর আমি স্বপ্ন দেখি - সুনীলের মতো
পাহাড় কেনার নয় - বহমান নদীর ভালোবাসা
হ্যাঁ , ভালোবাসা কিনব আমি ।

~~~~~~ 000 ~~~~~~

সাগর বেলায়

সাগর বেলায় সদ্য ফোটা গোলাপ হাতে
মেয়েটি - মনের এক অজানা তীব্র বাসনায় -
উন্মুক্ত অম্বরতলে - ঢেউতোলা ফেনারাশির
সুভ্রতায় দাঁড়ায়ে।
স্নানের পূর্বে উষ্ণতার অনুভব
চোখে চোখে ; অস্পষ্ট কন্ঠস্বরে মৃদু গুঞ্জরণ।
ক্ষুদ্র বালিহাঁস উস্কে দিলো অন্তহীন প্রেমাকাঙ্খা
বিতৃষ্ণা রাতে খেয়েছে - লজ্জা ;
গিরিশ্রেনীর ঝর্ণায় কুয়াশা স্নাত - বেয়ারাগুলো
বিয়ে করেছে -- পরিনীতা নয় , প্রেমিকা ;
                                                --- ব্যাস।

অনেক স্মৃতি জড়িত দর্পনের সঙ্গে
উত্তেজনায় মগ্ন - তীব্র কৃত্রিম সুখে ;
প্রেমের দীপশিখা নিভে এলো
সপ্ত সুর লুপ্ত - বেসামাল ;

নিরালা ঘরের কপোত কপোতী ।

------------ ০০০ ---------------

বেশ্যা

                    বেশ্যা

----- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম 


সাধুর নগরে বেশ্যা মরেছে

পাপের হয়েছে শেষ,
বেশ্যার লাশ হবে না দাফন
এইটা সাধুর দেশ।
জীবিত বেশ্যা ভোগে তো আচ্ছা, মরিলেই যত দোস?

দাফন কাফন হবে না এখন
সবে করে ফোস ফোস।
বেশ্যা তো ছিল খাস মাল, তোদের রাতের রানী,
দিনের বেলায় ভুরু কোচ কাও?
মরিলে দেওনা পানি!

সাধু সুনামের ভেক ধরিয়া দেখালি দারুন খেলা,
মুখোশ তোদের খুলবে অচিরে
আসবে তোদের বেলা।
রাতের আধারে বেশ্যার ঘর স্বর্গ তোদের কাছে,
দিনের আলোতে চিননা তাহারে?
তাকাও নাকো লাজে!

চিনি চিনি ভাই সব সাধুরেই হরেক রকম সাজ,
সুযোগ পেলেই দরবেশী ছেরে দেখাও উদ্দাম নাচ!
নারী আমাদের মায়ের জাতি বেশ্যা বানালো কে?
ভদ্র সমাজে সতীর ছেলেরা খদ্দের সেজেছে?
গরীবের বৌ সস্তা জিনিস সবাই ডাকো ভাবি,
সুযোগ পেলেই প্রস্তাব দাও আদিম পাপের দাবি।
স্বামী যখন মরলো ভাবির দুধের শিশু কোলে,
ভদ্র দেবর সুযোগ খোঁজে সহানুভূতির ছলে।

দিনের মত দিন চলে যায়,
হয় না তাতে দোষ
মরা লাশের সুযোগ পেয়ে মোল্লার রোষ।
মোল্লা সাহেব নায়েবে রাসুল ফতোয়া ঝারিশা কয়,
পতিতা নারীর জানাজা কবর এই এলাকায় নয়।

শুধাই আমি ওরে মোল্লা জানাযায় যত দোষ,
বেশ্যার দান নিয়াছো ঝোলিয়ে তুমি বেটা নির্দোষ?
বেশ্যার তবু আছে পাপ বোধ নিজেকে সে ভাবে দোষী,
তোমরা তো বেটা দিন বেচে খাও হচ্ছেয় খোদার খাসি।
আল্লাহর ঘর মসজিদে ও আছে বেশ্যার দান -
কলেমা পড়েছে সে ওতো তবে নামেতে মোসলমান!

বেশ্যা নারী ব্যবসায় নারী পুরুষরা সব সৎ?
জানি মোল্লা খুলবে না মুখ চাকরি যাওয়ার পথ!

আর কতকাল থাকবি অমন মুখোশ ধারীর দল,
আসবো এবার মশাল নিয়ে ভাঙতে তোদের কল।
সত্যর আলো জলবে যখন চিনবে তোদের সবে,
লেবাশধারী মুখোশধারী মুখোশ উপরে যাবে।
এই ভাবে আর চালাবি কত ছল চাতুরীর খেলা।
আসবে তিনি, এবার তোদের বিদায় নেবার পালা।।

কস্তুরী

কস্তুরী !!, 
তোমার জন্ম কোথায় ?
শাল-সেগুনের ছায়ায় তোমার আসা যাওয়া
সুন্দর গোরী গোরী চেহারা
রূপসী রাণীর দীপ শিখা;
অন্তরের অনিবার্য আকর্ষণ।
চিতল হরিণের অতল নাভিমূলে ?

কচি জীবনের প্রথম প্রেমের আকর্ষণ ,
চঞ্চল হৃদয় শব্দের অনুরণন ;
প্রকোষ্ঠ বন্ধী হয়ে প্রেমিক মনে এসেছে
স্বপ্নের বসন্ত; খুঁজে বেড়ায় ----
গলি হতে গলি ; কাব্য হতে কবিতায় ,
উপন্যাসের পাতায় পাতায় ;

তবুওঃ ম্রিয়মান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি ----
তার পরই চোখে ভাষে
এক দুরন্ত হরিণী রূপ; --- ধীর স্থির
শান্ত ভাবে ---- গুনতী পদে
চলছে বেয়ে অস্তরাগের তরী ;
করন্তে মিহিকায় ভেজা ফুল চয়নে
প্রভাতে বেস্ত ---- আমার হৃদয় কস্তুরী ।

হে মোর সহ কস্তুরী !
তুমি রাতের অন্ধকার নও , ----
----- জ‍্যোৎস্নার অম্লান হাসি ;
তোমার অনবদ্যাঙ্গী প্রবহমান হিয়ায় আমি ;
অনপেক্ষ প্রেমিক হয়ে রব
---- এ শতাব্দীর শাশ্বতকাল পরেও ।

––– ০০০ –––

শ্রাবণী

আমি চলেছি  পথের বাঁকে হারিয়েছি তোমাকে শ্রাবণী ! শ্রাবস্তী নগরী পার হয়ে তুমি            ত্রস্তা ধরণীর বুকে মিশেছ। তুমি সুখী হয়েছ তো ...